১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সাময়িক বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • /

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জন্মসনদ দিতে ২০হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সেই সচিব আব্দুল আলিমকে।

নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং একটি ফৌজদারি মামলায় ১০ দিন কারাভোগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে আঃ আলিমকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওই পত্রে বলা হয়েছে, নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করার জন্য মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪৪ ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতিপরায়ণতা ও প্রতারণার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আঃ আলিম ধলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে বাঘারপাড়ার আমলী আদালতের সিআর মামলা নং-০৩৪/২৫, স্মারক নং-০৬৪/২৫, তারিখ ২ জুলাই ২০২৫-এর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাঘারপাড়া থানায় মামলা নং-০৫, তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫ দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩০৬(খ)/৩৪ ধারায় করা হয়।
ওই মামলায় আঃ আলিম ১৩ জুলাই ২০২৫ আদালতে হাজির হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি ১৩ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫ দিন জেলহাজতে ছিলেন। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪০ ধারা অনুযায়ী তাকে প্রশাসনিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের আবু রায়হান ওরফে মো. রায়হান হোসেনের কাছে নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে আঃ আলিম ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আবু রায়হান স্থানীয় সরকারের যশোর জেলা উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আঃ আলিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে জেলা প্রশাসক আঃ আলিমকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।

বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূপালী সরকার সাংবাদিক কে বলেন, “বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আঃ আলিম কে জেলা প্রশাসক স্যার সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।”

এদিকে, সাময়িক বরখাস্তের এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন, আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট: ১১:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জন্মসনদ দিতে ২০হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সেই সচিব আব্দুল আলিমকে।

নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং একটি ফৌজদারি মামলায় ১০ দিন কারাভোগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে আঃ আলিমকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওই পত্রে বলা হয়েছে, নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করার জন্য মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪৪ ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতিপরায়ণতা ও প্রতারণার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আঃ আলিম ধলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে বাঘারপাড়ার আমলী আদালতের সিআর মামলা নং-০৩৪/২৫, স্মারক নং-০৬৪/২৫, তারিখ ২ জুলাই ২০২৫-এর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাঘারপাড়া থানায় মামলা নং-০৫, তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫ দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩০৬(খ)/৩৪ ধারায় করা হয়।
ওই মামলায় আঃ আলিম ১৩ জুলাই ২০২৫ আদালতে হাজির হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি ১৩ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫ দিন জেলহাজতে ছিলেন। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪০ ধারা অনুযায়ী তাকে প্রশাসনিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের আবু রায়হান ওরফে মো. রায়হান হোসেনের কাছে নীতিমালাবহির্ভূত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে আঃ আলিম ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আবু রায়হান স্থানীয় সরকারের যশোর জেলা উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আঃ আলিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে জেলা প্রশাসক আঃ আলিমকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।

বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূপালী সরকার সাংবাদিক কে বলেন, “বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আঃ আলিম কে জেলা প্রশাসক স্যার সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।”

এদিকে, সাময়িক বরখাস্তের এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন, আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।