১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

প্রসঙ্গ স্থানীয় নির্বাচন : সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১০

​মোঃ আনিছুর রহমান : ​একটি প্রগতিশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অপরিসীম।

তবে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল সাময়িক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং প্রার্থীর অতীত, বর্তমান, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নৈতিক চরিত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তাঁদের মতে, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম—এমন প্রার্থীকেই ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা উচিত।

​পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা :

​প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থার চেয়ে তাঁর ভেতরের ‘বংশগত আভিজাত্য’ বা নৈতিক মূল্যবোধকে বড় করে দেখা প্রয়োজন। প্রার্থী দরিদ্র হতে পারেন, কিন্তু তাঁর মধ্যে যদি সততা ও রুচিবোধের আভিজাত্য থাকে, তবে তিনি সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবেন। সমাজের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কেমন এবং তিনি একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন কি না, ভোট দেওয়ার আগে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

​নৈতিক চরিত্র ও নারীঘটিত বিষয় :

​জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম বড় গুণ হতে হবে পরিচ্ছন্ন নৈতিক চরিত্র। একজন সমাজসেবক জনগণের সেবার আড়ালে কোনো অনৈতিক বা নারীঘটিত বিতর্কে জড়াবেন কি না, তা তাঁর অতীত আচরণ দেখলেই অনুমান করা যায়। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ ছিল কি না, কিংবা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একাধিক বিবাহ বা নারীঘটিত কোনো নৈতিক স্খলন ঘটেছে কি না—তা ভোটারদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। নৈতিকভাবে কলঙ্কিত কোনো ব্যক্তি কখনো সমাজের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারেন না।

​রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও রাজস্ব ফাঁকি :

​যিনি রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা বা প্রতিনিধি হতে চান, তাঁর নিজেরই রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। প্রার্থী নিয়মিত কর বা রাজস্ব প্রদান করেন নাকি রাষ্ট্রের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন, তা প্রার্থীর সততা পরিমাপের একটি বড় মানদণ্ড। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি জনগণের আমানত রক্ষা করতে পারেন না।

​অতীতে জনসেবার ট্র্যাক রেকর্ড :

​নির্বাচন এলেই অনেকে নতুন করে সমাজসেবক সেজে মাঠে নামেন। কিন্তু ভোটারদের দেখতে হবে, প্রার্থী অতীতে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কি না। এলাকার মানুষ তাঁর পূর্বের সমাজসেবার বিষয়ে কী ধরনের সাক্ষ্য বা ‘প্রশংসাপত্র’ দিচ্ছে, তা যাচাই করা আবশ্যক।

​ভোটারদের প্রতি আহ্বান :

​সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রতিনিধি নির্বাচন করা। যিনি জয়ী হয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না এবং সমাজকে কলঙ্কমুক্ত রাখবেন, তিনিই প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য। তাই আবেগের বশে বা সাময়িক প্রলোভনে না পড়ে, প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত ও চরিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

প্রসঙ্গ স্থানীয় নির্বাচন : সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা

আপডেট: ১১:০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

​মোঃ আনিছুর রহমান : ​একটি প্রগতিশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অপরিসীম।

তবে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল সাময়িক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং প্রার্থীর অতীত, বর্তমান, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নৈতিক চরিত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তাঁদের মতে, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম—এমন প্রার্থীকেই ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা উচিত।

​পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা :

​প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থার চেয়ে তাঁর ভেতরের ‘বংশগত আভিজাত্য’ বা নৈতিক মূল্যবোধকে বড় করে দেখা প্রয়োজন। প্রার্থী দরিদ্র হতে পারেন, কিন্তু তাঁর মধ্যে যদি সততা ও রুচিবোধের আভিজাত্য থাকে, তবে তিনি সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবেন। সমাজের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কেমন এবং তিনি একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন কি না, ভোট দেওয়ার আগে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

​নৈতিক চরিত্র ও নারীঘটিত বিষয় :

​জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম বড় গুণ হতে হবে পরিচ্ছন্ন নৈতিক চরিত্র। একজন সমাজসেবক জনগণের সেবার আড়ালে কোনো অনৈতিক বা নারীঘটিত বিতর্কে জড়াবেন কি না, তা তাঁর অতীত আচরণ দেখলেই অনুমান করা যায়। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ ছিল কি না, কিংবা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একাধিক বিবাহ বা নারীঘটিত কোনো নৈতিক স্খলন ঘটেছে কি না—তা ভোটারদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। নৈতিকভাবে কলঙ্কিত কোনো ব্যক্তি কখনো সমাজের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারেন না।

​রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও রাজস্ব ফাঁকি :

​যিনি রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা বা প্রতিনিধি হতে চান, তাঁর নিজেরই রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। প্রার্থী নিয়মিত কর বা রাজস্ব প্রদান করেন নাকি রাষ্ট্রের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন, তা প্রার্থীর সততা পরিমাপের একটি বড় মানদণ্ড। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি জনগণের আমানত রক্ষা করতে পারেন না।

​অতীতে জনসেবার ট্র্যাক রেকর্ড :

​নির্বাচন এলেই অনেকে নতুন করে সমাজসেবক সেজে মাঠে নামেন। কিন্তু ভোটারদের দেখতে হবে, প্রার্থী অতীতে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কি না। এলাকার মানুষ তাঁর পূর্বের সমাজসেবার বিষয়ে কী ধরনের সাক্ষ্য বা ‘প্রশংসাপত্র’ দিচ্ছে, তা যাচাই করা আবশ্যক।

​ভোটারদের প্রতি আহ্বান :

​সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রতিনিধি নির্বাচন করা। যিনি জয়ী হয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না এবং সমাজকে কলঙ্কমুক্ত রাখবেন, তিনিই প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য। তাই আবেগের বশে বা সাময়িক প্রলোভনে না পড়ে, প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত ও চরিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।