১১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

খাগড়াছড়িতে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মামলার রায় ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে খাগড়াছড়ির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ জুলাই রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের নাকাপা বাজারে অভিযুক্তের পরিচালিত একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে পরিচিত হওয়ায় অভিযুক্ত শিশুটিকে দোকানে ডেকে বিস্কুট ও কেক খেতে দেয়। পরে দোকানে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর রামগড় থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত নির্দেশ দেন, জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে।
এছাড়া, মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের অনুমোদনের পর আইন অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর হবে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডিত আসামি চাইলে রায় ঘোষণার সাত কর্মদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, “মাত্র এক বছরের মধ্যে মামলার বিচার শেষ হওয়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. বেদারুল ইসলাম জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়িতে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

আপডেট: ০৭:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মামলার রায় ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে খাগড়াছড়ির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ জুলাই রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের নাকাপা বাজারে অভিযুক্তের পরিচালিত একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে পরিচিত হওয়ায় অভিযুক্ত শিশুটিকে দোকানে ডেকে বিস্কুট ও কেক খেতে দেয়। পরে দোকানে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর রামগড় থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত নির্দেশ দেন, জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে।
এছাড়া, মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের অনুমোদনের পর আইন অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর হবে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডিত আসামি চাইলে রায় ঘোষণার সাত কর্মদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, “মাত্র এক বছরের মধ্যে মামলার বিচার শেষ হওয়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. বেদারুল ইসলাম জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।