একদিকে মাদক অন্যদিকে অনলাইন আসক্তি : এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে আমাদের পরিবারগুলো
- আপডেট: ০৫:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩

সাঈদ ইবনে হানিফ ‘টাকা দিব, মারিস না’ এটা কোন অনুরোধ নয়, এক উন্মদ ছেলের হাতে মায়ের আর্তনাদ, এঘটনায় কাপছে সোশ্যাল মিডিয়া।সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক সহিংসতার খবর নয়, বরং আমাদের সমাজের এক গভীর সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে-একদিকে মাদক আসক্তি, অন্যদিকে —অনলাইন আসক্তি,এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে পারিবারিক কলহ, সহিংসতা, ভাঙন। এতে পরিবার গুলো তাদের সন্তানদের উপর নিয়ন্ত্রণহীন হারাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমে যা জানা গেছে তা হলো গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ১৮ বছর বয়সী জাবেদ নিয়মিত অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। ঘটনার দিন তিনি গেম খেলার জন্য টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে হাতে থাকা ধারালো বটি দিয়ে নিজের মাকেই ভয় দেখিয়ে মারধর শুরু করেন।
ভিডিওটি যেটা ভাইরাল হয়েছে, সেটি আসলে তার নিজের বোনের মোবাইলে ধারণ করা। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়—একজন অসহায় মা নিজের সন্তানের হাত থেকে বাঁচতে কাকুতি-মিনতি করছেন, “টাকা দিব, মারিস না”—এই বাক্যটাই এখন মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে। একবার ভাবুন তো এমন ঘটনা হয়তো বা আপনার চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটছে। কিন্তু সেসব ঘটনা হয়তো এভাবে সামনে আসেনা।
স্থানীয়রা জানান, ছেলেটি কিছুদিন ধরেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং গেম খেলার জন্য প্রায়ই পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা হিসেবে না দেখে বড় সামাজিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন—বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের মধ্যে অনলাইন গেমিং আসক্তি এবং মাদক আসক্তি শিশু ও তরুণ প্রজন্মের উপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছে যা তাদের মানসিক নিয়ন্ত্রণের প্রঅভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখন প্রশ্নটা শুধু জাবেদকে ঘিরে নয়—আমাদের পরিবারগুলো কতটা প্রস্তুত এই নতুন ধরনের আসক্তির বিরুদ্ধে? আমাদের সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন আমরা কতটা নজরে রাখছি? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটা ভিডিও আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই নাড়া কি কোনো পরিবর্তন আনবে—সেটাই এখন দেখার বিষয় ।

























