বাঘারপাড়ার পাইকপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ
- আপডেট: ০৭:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৬

সাঈদ ইবনে হানিফ : আছে —দৃষ্টিনন্দন ভবন, সুন্দর সুন্দর কক্ষ, নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। এমনই অবস্থার মধ্যে রয়েছে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক।
নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ক্লিনিক টি প্রায় দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ। ফলে এলাকার পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার ব্যয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের জুন মাসেই নির্মাণকাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্লিনিকটি চালু হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিত্রা নদীর পাড়ে নির্মিত ক্লিনিকটির প্রধান দরজায় ঝুলছে মরচে ধরা তালা। বারান্দাজুড়ে ধুলাবালি, ছাদে মাকড়সার জাল, চারপাশে আগাছার স্তূপ—অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে সরকারি এই স্থাপনাটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণের পর কিছুদিন বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বর্তমানে সেটিও বিচ্ছিন্ন। মাঝে মাঝে কেউ এসে পরিষ্কার করলেও নিয়মিত ব্যবহারের অভাবে ভবনটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক (৩৮) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত সুন্দর একটা ক্লিনিক বানানো হলো, কিন্তু কোনো কাজেই লাগছে না। চালু হলে অন্তত কিছু ওষুধ আর প্রাথমিক চিকিৎসা পেতাম।”
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকে—কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারী এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী। কিন্তু লোকবল না থাকায় ক্লিনিকটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় তুলেছি। দ্রুত চালুর জন্য আবারও জোরালোভাবে উত্থাপন করবো।”
বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অরূপ জ্যোতি ঘোষ সাংবাদিককে জানান,
“লোকবল সংকটের কারণে ক্লিনিকটি চালু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, “ভবন নির্মাণ শেষ করে তা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন ক্লিনিক চালুর দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের।”
সরকারি উদ্যোগে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘদিন অচল থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— আদৌও কি মানুষ এখানে সাস্থ্যসেবা পাবে?।
























