০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নড়াইলে হাঁক-ডাক দিয়ে ৩০ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে চলছে স্বপন কুন্ডুর সংসার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৭

নড়াইল প্রতিনিধি: কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শীত- গরম-রোদ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহকের দ্বারে দ্বারে পত্রিকা পৌঁছে দেন হকার স্বপন কুন্ডু। পত্রিকা বিক্রি করেই চলছে তার জীবিকা।

নড়াইল হাতির বাগান মোড় থেকে বৌবাজার, মুচিপোল, রুপগন্জ, বাঁধাঘাট, দিবদারতলা, পুরাতন বাস টার্মিনাল, কোর্টচত্বরসহ নড়াইল পুরাতন বাজারের শত শত পত্রিকার পাঠক ও গ্রাহকের পরিচিত নাম হকার স্বপন কুন্ডু। প্রতিদিন ভোর থেকেই যার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে পাঠক ও গ্রাহকরা। স্বপন কুন্ডুর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ শাশুড়ী নিয়ে ৫ জনের সংসার।

ছেলে বাংলায় মাস্টার্স করছে আর মেয়ে এইচএসসি পরিক্ষার্থী। ৫ সদস্যের সংসারের ঘানি টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। হকার স্বপন কুন্ডু জানান, বিয়ে করার পরপরই চোখে মুখে নেমে আসে অন্ধকার। কোনো কুল কিনারা না পেয়ে সংসারের হাল ধরতে সিদ্ধান্ত নেয় পত্রিকা বিক্রির। ১৯৯৪ সালে আঞ্চলিক একটি পত্রিকা দৈনিক লোকসমাজ এর ব্যবস্থাপক বাদলের পরামর্শ ও সহোযোগিতায় শুরু হয় পত্রিকা বিক্রি। তখন থেকে স্বপন কুন্ডু হয়ে যান হকার স্বপন।

স্বপন কুন্ডু আরও জানান, আগে পত্রিকার চাহিদা ছিল পত্রিকা ও অনেক বিক্রি হত। দ্রব্যের মূল্য ও কম ছিল পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হত তা দিয়ে মোটামুটি সংসার চোলে যেত। বর্তমানে ইন্টারনেটে সব পাওয়া যাওয়ায় পত্রিকার পাঠক ও গ্রাহক অনেক কমে গেছে, এখন যা আয় হয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আমি প্রায় ৩১ বছর ধরে নিরলস ভাবে পাঠক ও গ্রাহকে হাতে সময় মতো পত্রিকা পৌছে দিয়ে আসছি। যেদিন আমার মা মারা যান সেদিনও আমি পত্রিকা বিলি করছি। পত্রিকা বিলি করার প্রতি মায়া মহব্বত হয়ে যাওয়ায় এই পেশাও পরিবর্তন করতে পারছিনা। গ্রাহক জাহাঙ্গীর মিনা বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে স্বপনের কাছ থেকে পত্রিকা নেওয়ার জন্য বাজারে এসে অপেক্ষা করি। কখন স্বপনদা আসবে আর কখন পত্রিকা পাব। আমি বয়স্ক মানুষ মোবাইলে সংবাদ পড়তে পারিনা। পত্রিকা পড়েই দেশ বিদেশের খোঁজ খবর জানি। আরেক গ্রাহক রেজাউল ইসলাম বলেন, স্বপনদা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত সময় মতো আমাদের পত্রিকা পৌঁছে দেয়। হকার স্বপনদার আচার-আচরণ নিসন্দেহে প্রশংসনীয়।

Please Share This Post in Your Social Media

নড়াইলে হাঁক-ডাক দিয়ে ৩০ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে চলছে স্বপন কুন্ডুর সংসার

আপডেট: ০৪:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

নড়াইল প্রতিনিধি: কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শীত- গরম-রোদ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহকের দ্বারে দ্বারে পত্রিকা পৌঁছে দেন হকার স্বপন কুন্ডু। পত্রিকা বিক্রি করেই চলছে তার জীবিকা।

নড়াইল হাতির বাগান মোড় থেকে বৌবাজার, মুচিপোল, রুপগন্জ, বাঁধাঘাট, দিবদারতলা, পুরাতন বাস টার্মিনাল, কোর্টচত্বরসহ নড়াইল পুরাতন বাজারের শত শত পত্রিকার পাঠক ও গ্রাহকের পরিচিত নাম হকার স্বপন কুন্ডু। প্রতিদিন ভোর থেকেই যার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে পাঠক ও গ্রাহকরা। স্বপন কুন্ডুর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ শাশুড়ী নিয়ে ৫ জনের সংসার।

ছেলে বাংলায় মাস্টার্স করছে আর মেয়ে এইচএসসি পরিক্ষার্থী। ৫ সদস্যের সংসারের ঘানি টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। হকার স্বপন কুন্ডু জানান, বিয়ে করার পরপরই চোখে মুখে নেমে আসে অন্ধকার। কোনো কুল কিনারা না পেয়ে সংসারের হাল ধরতে সিদ্ধান্ত নেয় পত্রিকা বিক্রির। ১৯৯৪ সালে আঞ্চলিক একটি পত্রিকা দৈনিক লোকসমাজ এর ব্যবস্থাপক বাদলের পরামর্শ ও সহোযোগিতায় শুরু হয় পত্রিকা বিক্রি। তখন থেকে স্বপন কুন্ডু হয়ে যান হকার স্বপন।

স্বপন কুন্ডু আরও জানান, আগে পত্রিকার চাহিদা ছিল পত্রিকা ও অনেক বিক্রি হত। দ্রব্যের মূল্য ও কম ছিল পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হত তা দিয়ে মোটামুটি সংসার চোলে যেত। বর্তমানে ইন্টারনেটে সব পাওয়া যাওয়ায় পত্রিকার পাঠক ও গ্রাহক অনেক কমে গেছে, এখন যা আয় হয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আমি প্রায় ৩১ বছর ধরে নিরলস ভাবে পাঠক ও গ্রাহকে হাতে সময় মতো পত্রিকা পৌছে দিয়ে আসছি। যেদিন আমার মা মারা যান সেদিনও আমি পত্রিকা বিলি করছি। পত্রিকা বিলি করার প্রতি মায়া মহব্বত হয়ে যাওয়ায় এই পেশাও পরিবর্তন করতে পারছিনা। গ্রাহক জাহাঙ্গীর মিনা বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে স্বপনের কাছ থেকে পত্রিকা নেওয়ার জন্য বাজারে এসে অপেক্ষা করি। কখন স্বপনদা আসবে আর কখন পত্রিকা পাব। আমি বয়স্ক মানুষ মোবাইলে সংবাদ পড়তে পারিনা। পত্রিকা পড়েই দেশ বিদেশের খোঁজ খবর জানি। আরেক গ্রাহক রেজাউল ইসলাম বলেন, স্বপনদা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত সময় মতো আমাদের পত্রিকা পৌঁছে দেয়। হকার স্বপনদার আচার-আচরণ নিসন্দেহে প্রশংসনীয়।