মাগুরায় হৃদয়পুরে জাল কাবিননামা অভিযোগ। ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করার অভিযোগ।
- আপডেট: ০৯:১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১০০

বিশেষ সংবাদদাতা : মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হৃদয়পুর গ্রামে মোছাঃ মুরশিদা খাতুন (৩১) বাদী হয়ে মোঃ রুমন খাঁ কে (৩৭) বিবাদী করে জাল নিকাহনামা (কাবিননামা) করে মোকাম বিজ্ঞ ঢাকা সি এম এম সাহেবের আদালতে মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গত শুক্রবার ৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে হৃদয়পুর গ্রামের স্থানীয় গণ্যমান্য মাতব্বর লোকজন, রুমন খাঁ ও মুরশিদা খাতুনের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে আসল সত্য বেরিয়ে আসে।
এফিডেভিট মোকাম মাগুরার নোটারী পাবলিক কার্যালয় (বিবাহের ঘোষণা) সূত্রে জানা যায়, রেজিঃ নং- ১৮২/১৩ তাং- ১৫.০৪.২০১৩ ইং তারিখে এ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সংগ্রাম স্বাক্ষরিত মোছাঃ মুরশিদা খাতুন (১৯), পিতা- মোঃ হামিদ মোল্যা ও মোঃ রুমন খাঁ (২৫), পিতা- মৃত সুরুজ খাঁ, উভয় সাং- হৃদয়পুর, থানা ও জেলা- মাগুরা। তাদের উভয় পক্ষের বাড়ি একই গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমাদের ভালোবাসা এতই গভীর যে আমাদের পক্ষে একে অন্যকে ছাড়া আদৌও জীবন যাপন করা সম্ভবপর নহে। আমরা ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক স্থানীয় মৌলভী দ্বারা পবিত্র কলেমা পাঠের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি। আমার স্বামী ২য় পক্ষকে আমি স্বামী হিসেবে যত্ন করিব এবং তার কথামতো চলাফেরা করিব। কখনোই আমার স্বামীর অবাধ্য কোন রূপ কার্য্য করিব না। আমি ২য়পক্ষ আমার স্ত্রীকে (১ম পক্ষকে) পূর্ণ স্ত্রীর মর্যাদায় রাখিব। কখনই তাহাকে অত্যাচার-নির্যাতন করিব না বা খাবার কষ্ট দিবনা বা তাহার নিকট যৌতুক দাবি করিব না, তাকে দূরে রাখিব না শত বিপদ আপদে স্ত্রীকে পাশে রেখে সংসারের সবাইকে আপন করে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করিব।
মোকাম বিজ্ঞ সিএমএম সাহেবের আদালত ঢাকা। ধারা ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা, সি আর মামলা নং- ৫৮৭/২৪, এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ ঢাকা মামলার সূত্রে জানা যায়, মোছাঃ মুরশিদা খাতুন (৩৬) বর্তমানে ফার্মগেট পূর্ব রাজাবাজার ২৯/বি, থানা- তেজগাঁও, ঢাকা থাকে। এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে হৃদয়পুর গ্রামের মৃত সুরুজ খাঁর পুত্র মোঃ রুমন খাঁ, নালেরডিংগী গ্রামের মৃত মধু মন্ডলের পুত্র মিরাজ (৪৮) ও হৃদয়পুর গ্রামের মাছুম খাঁয়ের স্ত্রী লিপি খাতুনের (৩৮) বিরুদ্ধে। স্বাক্ষীগণ হিসেবে আছে বাদিনী নিজে, শীতল (১১) পিতা- মোঃ রুমন খাঁ, দাড়িয়াপুর আলমখালী এলাকার আসাদ শেখ, দাড়িয়াপুর গ্রামের মাহতাব মোল্যার পুত্র হামিদ মোল্যা, মোঃ আসাদের স্ত্রী মোসাঃ হালিমা খাতুন। ঘটনার তারিখ ও সময় স্থান গত ২৩/০৬/২০২৪ ইং রাত ৮ টার সময় ফার্মগেট পূর্ব রাজাবাজার ২৯/বি, থানা- তেজগাঁও, ঢাকা।
রুমন খাঁর সাথে গত ১৫/০৪/২০১৩ ইং তারিখে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক স্বাক্ষীগণের মোকাবেলায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য্যে রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে আসামী ব্যবসা করার জন্য বাদিনীর নিকট ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। কন্যা শীতলের কথা চিন্তা করে বাদী পিতার গরু বিক্রি করে ২ লক্ষ টাকা আসামীকে যৌতুক এনে দেয়। উক্ত টাকা ব্যবসা না করে নেশা করে উড়িয়ে দেয়। রুমন খাঁ চাকুরী করার জন্য আরব আমিরাতের দুবাই শহরে যায় এবং কিছুদিন পরে দেশে আসে এবং দুবাই লোক নিবে ঘোষণা দিয়ে বাদীর আত্মীয়-স্বজন থেকে পাসপোর্ট ও ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় কিন্তু তাদের বিদেশ নেয় নাই। গত ১৭/০৬/২০২৪ ইং তারিখে দেশে আসে এবং বাদীর বাসায় অবস্থান করে। অতঃপর বাদিনীর বর্তমান ঠিকানায় ঢাকায় এসে ২ ও ৩ নং আসামির প্ররোচনায় রুমন খাঁ বিগত ২৩.০৬.২০২৪ তারিখে রাত ৮ টার সময় পুনরায় ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে বাদিনী যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে তাকে কিল, ঘুষি মেরে নির্যাতন করে। তার ডাক চিৎকারে সাক্ষীরা আসলে তাকে বলে যে যৌতুক নিয়ে অনত্র বিবাহ করবে। ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
জাল জালিয়াতি নিকাহনামা (কাবিননামা) সূত্রে জানা যায়, বহি নং- ০৩/১৪, পৃষ্ঠা নং- ৯৩ তাঃ ১৫/১২/২০১৪ ইং শ্রীপুর ইউনিয়ন শ্রীপুর মাগুরা। কন্যা মোছাঃ মুশির্দা খাতুন ও বর রুমন খাঁ, কন্যা কর্তৃক উকিল নিযুক্ত মোঃ হামিদ, পিং মৃত মাহাতাব মোল্লা, গ্রাম- হৃদয়পুর ডাকঘর- হাজরাপুর, মোঃ আকরাম শিকদার পিতা- মৃত সালামত শিকদার, গ্রাম- দাইড়পোল, ডাকঘর- খামারপাড়া, থানা- শ্রীপুর ও মোঃ আছাদুজ্জামান, পিতা- মোঃ বাকের শেখ, গ্রাম- দাড়িয়াপুর, ডাকঘর- রাউতড়া, থানা ও জেলা- মাগুরা। বিবাহের সাক্ষীদের নাম হৃদয়পুর গ্রামের মৃত খিলাফত মুন্সীর পুত্র মোঃ বাকা মুন্সী ও আব্দুর গফুর মোল্লার পুত্র মোঃ কামরুল ইসলাম। গত ১৫/১২/২০১৪ ইং তারিখে বিবাহের কথাবার্তা ঠিক হইয়াছিল। দেন মোহরের পরিমাণ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মাত্র।
বিবাহ পড়ান হইয়াছে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামের মোঃ বোজদার আলীর পুত্র মোঃ আনোয়ার জাহিদ এর মাধ্যমে। বিবাহ রেজিস্ট্রি করার তারিখ ১৫/১২/২০২৪ ইং নিকাহ রেজিস্ট্রার এর জাল সাক্ষর মোঃ আলী রেজা।
হাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলী বিশ্বাসের পুত্র মোঃ মোহন বিশ্বাস জানান, রুমন ও মুরশিদার প্রেম ঘটিত বিয়ে হয় এদের দাম্পত্য জীবন চলার পর রুমন হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করে তখন বাদী ও বিবাদীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে সালিশ হয় ও হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদে আপোষ হয়। রুমন অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখায় মুরশিদার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক আছে বিভিন্ন পুরুষদের সাথে। তখন হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম আখরোট বললো ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আপোষ করতে হবে। রুমন যদি আবার এই মেয়ের উপর অন্যায় করলে এই মুরশিদা ঢাকায় সিএমএম কোর্টে মামলা দায়ের করে ও কাবিননামা দাখিল করে।
রুমনের মাতা রাবেয়া জানান, আমার পুত্রবধু একটা চরিত্রহীন মেয়ে সে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ব্লিডিং ঘরে একা থাকতো এবং তার একমাত্র কন্যা শীতল কে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে থেকে পরপুরুষ পরকীয়া প্রেমিকদের নিয়ে এসে সারারাত আমোদ ফুর্তি ও কামনার লালসায় মত্ত থাকতো। আর এই সব পুরুষ হলো রমজান সহ আরও বেশ কয়েকজন বেটা মানুষ এরা ব্লিডির সাথে নারকেল গাছ দিয়ে বেয়ে উঠে ছাদের ঘর দিয়ে প্রবেশ করে ইচ্ছে মতো কামনা বাসনা পূর্ণ করতো যার ফলে রমজান নাম করে এক পরকীয়া প্রেমিকের লীলা কীর্তির আড়াই মাসের পেটে বাচ্চার গর্ভবতী হয় মুরশিদা। এরপর রুমন দুবাই থেকে ছুটি নিয়ে এসে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ করে চিকিৎসকের মাধ্যমে ও পরামর্শে সেই বাচ্চা নষ্ট করে। তিনি আরও বলেন এই মুরশিদা আমার ছেলে রুমনের সাথে প্রেম করার পূর্ব থেকেই নষ্টা ছিলো আমি বার বার সর্তক করার পরও ছেলে রুমন শোনেননি এখন তার আসল রুপ প্রকাশ পেয়েছে এবং সে তার প্রেম লীলা কীর্তি কালাপ হাতেনাতে ধরেছে।
গত ০১/১০/২০২৫ মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মোঃ আলী রেজার প্রত্যয়নপত্র সূত্রে জানা যায় হৃদয়পুর গ্রামের মৃত সুরুজ খার পুত্র বর রুমন খাঁ ও একই গ্রামের মোঃ হামিদ মোল্যার কনে মোছাঃ মুশির্দা খাতুন দম্পতির বিবাহের যে কাবিননামা প্রদর্শিত হয়েছে উহার তারিখ ১৫/১২/২০১৪ ইং ঐ কাবিননামা আমার ৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রি ভলিয়ামে রেজিস্ট্রারী হয় নাই। উল্লেখিত দম্পতির প্রদর্শিত কাবিননামা জাল, ভূয়া ও বানোয়াট আমার সীল সহিজাল করা হয়েছে। যে বা যারা ঐ জাল কাবিননামা তৈরী করেছে আমি তাদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ফৌজদারী বিধিমোতাবেক শাস্তি কামনা করি।
এব্যাপারে মুরশিদা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি জানান, যে হুজুর বিয়ে পড়িয়ে ছিলো সে মারা গেছে। আর নিকাহনামা ও এফিডেভিট সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই ঢাকায় এসে কোর্টে গিয়ে কাগজপত্র দেখে নেন। এছাড়াও উত্তেজিত কথা বলে পরবর্তীতে বিএনপির রাজনৈতিক দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য পরিচয় দেওয়া জনৈক ব্যক্তি দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি মুলক কথা প্রদর্শন করাচ্ছে।
দারিয়াপুর গ্রামের আসাদ এর সাথে কথা হলে তিনি এই বিয়ের কাবিননামা সম্পর্কে কিছু মনে করতে পারছেন না এখন এটা জানান।
এদিকে রুমন খাঁ এর পরিবার জানান ছেলে ২য় বিয়ে করার পর এই নাটক শুরু করেছে মুরশিদা এবং এই জাল জালিয়াতি কাবিননামা করে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করার ব্যাপারে প্রশাসন ও আদালতের ন্যায়বান বিচারকের কাছে সঠিক তদন্ত করে এর সাথে জড়িত সমস্ত অপরাধী ও প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় কঠোর শাস্তি ও বিচার কামনা করছেন।






















