০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে যশোরে শীর্ষে শার্শা, লক্ষ্যমাত্রার ১১২ শতাংশ আদায়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৮৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে যশোর জেলার শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে শার্শা উপজেলা ভূমি অফিস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাধারণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১১৩ শতাংশ কর আদায় করে রেকর্ড গড়েছে তারা।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শার্শার ভূমি উন্নয়ন করের সাধারণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৪৩৩ টাকা। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ১১০ টাকা, যা আদায়ের হিসাবে ১১২.৮০ শতাংশ।

উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মধ্যে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি আদায় করেছে। তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আদায় হয়েছে ৪৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৯ টাকা—আদায়ের হার ১৩৫.৭%।

ইউনিয়নভিত্তিক আদায়ের চিত্রঃ বেনাপোল: লক্ষ্যমাত্রা ৬৭,৯৮,৯৫৬ টাকা, আদায় ৮১,৩১,৫৬১ টাকা (১১৯.৬%), বুরুজবাগান: ৩০,০৫,০৬৪ টাকার বিপরীতে আদায় ৩৩,০২,২৪৬ (১০৯.৯%), উলাশী: ২৫,৪০,২৪০ টাকার বিপরীতে আদায় ২৭,৩৪,২৮০ (১০৭.৬%), লক্ষণপুর: ৩১,১০,৫৭৫ টাকার বিপরীতে আদায় ৩৫,২৫,৫৬০ (১১৩.৩%), ডিহি: আদায় হয়েছে ২১,৮৭,০১৯ টাকা, হার ১১৩%, কায়বা: আদায়ের হার ১০৭.১%, গোগা: লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ আদায়, বালুন্ডা: লক্ষ্যমাত্রা ১৮,৬২,৮৩০ টাকা, আদায় ১৯,৮২,১০৫ টাকা (১০৬.৪%)।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শওকত মেহেদী (সেতু) জানান, “ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে আমরা শার্শা উপজেলাকে ডিজিটাল ও সেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলেছি। নিয়মিত মনিটরিং, ইউনিয়নভিত্তিক পর্যালোচনা এবং তদারকির কারণে এ সাফল্য এসেছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলার মোট ৫৫০টি অর্পিত সম্পত্তি গেজেটভুক্ত নথির মধ্যে ৩৭৭টি চলমান রয়েছে এবং বাকি ১৭৩টি নথির কাজ চলমান।

উপজেলায় ৩টি মৌজায় মোট ৪৪১ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। শওকত মেহেদী জানান, “স্থানীয়দের সহায়তা পেলে আরও বহু জমি উদ্ধার সম্ভব। আমরা অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করছি।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থার কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮১ লাখ ৯৯ হাজার ১১০ টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, অর্থাৎ মাত্র ২৭ শতাংশ।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান নানা প্রকল্প ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই খাতেও শিগগিরই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে যশোরে শীর্ষে শার্শা, লক্ষ্যমাত্রার ১১২ শতাংশ আদায়

আপডেট: ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে যশোর জেলার শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে শার্শা উপজেলা ভূমি অফিস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাধারণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১১৩ শতাংশ কর আদায় করে রেকর্ড গড়েছে তারা।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শার্শার ভূমি উন্নয়ন করের সাধারণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৪৩৩ টাকা। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ১১০ টাকা, যা আদায়ের হিসাবে ১১২.৮০ শতাংশ।

উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মধ্যে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি আদায় করেছে। তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আদায় হয়েছে ৪৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৯ টাকা—আদায়ের হার ১৩৫.৭%।

ইউনিয়নভিত্তিক আদায়ের চিত্রঃ বেনাপোল: লক্ষ্যমাত্রা ৬৭,৯৮,৯৫৬ টাকা, আদায় ৮১,৩১,৫৬১ টাকা (১১৯.৬%), বুরুজবাগান: ৩০,০৫,০৬৪ টাকার বিপরীতে আদায় ৩৩,০২,২৪৬ (১০৯.৯%), উলাশী: ২৫,৪০,২৪০ টাকার বিপরীতে আদায় ২৭,৩৪,২৮০ (১০৭.৬%), লক্ষণপুর: ৩১,১০,৫৭৫ টাকার বিপরীতে আদায় ৩৫,২৫,৫৬০ (১১৩.৩%), ডিহি: আদায় হয়েছে ২১,৮৭,০১৯ টাকা, হার ১১৩%, কায়বা: আদায়ের হার ১০৭.১%, গোগা: লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ আদায়, বালুন্ডা: লক্ষ্যমাত্রা ১৮,৬২,৮৩০ টাকা, আদায় ১৯,৮২,১০৫ টাকা (১০৬.৪%)।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শওকত মেহেদী (সেতু) জানান, “ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে আমরা শার্শা উপজেলাকে ডিজিটাল ও সেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলেছি। নিয়মিত মনিটরিং, ইউনিয়নভিত্তিক পর্যালোচনা এবং তদারকির কারণে এ সাফল্য এসেছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলার মোট ৫৫০টি অর্পিত সম্পত্তি গেজেটভুক্ত নথির মধ্যে ৩৭৭টি চলমান রয়েছে এবং বাকি ১৭৩টি নথির কাজ চলমান।

উপজেলায় ৩টি মৌজায় মোট ৪৪১ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। শওকত মেহেদী জানান, “স্থানীয়দের সহায়তা পেলে আরও বহু জমি উদ্ধার সম্ভব। আমরা অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করছি।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থার কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮১ লাখ ৯৯ হাজার ১১০ টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, অর্থাৎ মাত্র ২৭ শতাংশ।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান নানা প্রকল্প ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই খাতেও শিগগিরই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।