ডিবি যশোরের অভিযানে অভিনব প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার, স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার
- আপডেট: ১২:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
- / ১২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে অভিনব কায়দায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন যশোর শহরের বাসিন্দা গোলাপী রানি দত্ত (৩৫)। তিনি জানান, মাসখানেক আগে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ‘ধর্মবোন’ পরিচয়ে ফোনে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। এরপর ১ আগস্ট রূপদিয়া রেলস্টেশনের পাশে দেখা করে জানায়—সে নাকি জাদুবিদ্যায় পারদর্শী, এবং কাগজ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রলোভনে পড়ে ৩ আগস্ট আবারও দেখা করেন ভুক্তভোগী। সঙ্গে নিয়ে যান তার কাছে থাকা মোট ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা)। সেই সুযোগে প্রতারক ওই ব্যক্তি সোনার অলংকার নিয়ে সটকে পড়ে।
ঘটনার পর যশোরের পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
ডিবি’র ওসি’র নেতৃত্বে এসআই অলক কুমার দে (পিপিএম) এবং এএসআই মো. শামসুজ্জামান আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালী থানার নরেন্দ্রপুর (শাখারীগাতি) এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের মূল হোতা মো. আসাদুল শেখ ওরফে রাজুকে (৪০) গ্রেফতার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরে রূপদিয়া বাজার থেকে মো. খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে আরেক প্রতারককেও আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া ১৯টি স্বর্ণের আংটি, ৬ জোড়া কানের দুল, ৩টি চেইন, ১টি টিকলি—সব মিলিয়ে মোট ২ ভরি ১৩ আনার অলংকার উদ্ধার করে পুলিশ। এসবের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে জাদুবিদ্যার ভুয়া প্রলোভনে ফেলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করে আসছিল।
আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২১ আগস্ট তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. আসাদুল শেখ ওরফে রাজু (৪০)পিতা– মো. নফল আলী শেখ গ্রাম-উত্তর আরশনগর, থানা– ডুমুরিয়া, জেলা– খুলনা অপরজন হলেন মো. খাইরুল ইসলাম (৪৫) পিতা– আব্দুল গফফার, গ্রাম– শাখারীগাতি পূর্বপাড়া, থানা– কোতোয়ালি মডেল, জেলা–যশোর।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের প্রতারকচক্র সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




















