গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : ঘুমাতে কে না ভালোবাসে। আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যদি কোন দিবস পালন করা যায় তাহলেতো কোন কথাই নেই। হ্যা ঠিকই ধরেছেন, আজকের দিনটি শুধু ঘুমপ্রেমীদের। কেননা আজ বিশ্ব ঘুম দিবস। পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা হয় ভালো ঘুমের জন্য একজন মানুষকে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।

ঘুমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের (World Association of Sleep Medicine) ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে কমিটি ২০০৮ সাল থেকে এ দিবস পালন করে আসছে।

প্রতি বছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার এ দিনটি পালন করা হয়। এ দিনটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের উপলক্ষ্যে করেই দিবসটির প্রচলন।

বিশ্ব ঘুম দিবসের ইতিহাস

যারা মারাত্মক ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষকে সহায়তা এবং বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী ৭০টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হয়।

এই দিবস ঘুম সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যু যেমন- ঘুমের ওষুধ এবং অনিদ্রার সামাজিক প্রভাব নিয়ে কাজ করে। হালকা থেকে গুরুতর ঘুমের সমস্যা বর্তমান সমাজে অনেকের মাঝেই দেখা যায়। গুরুত্ব না দিলে এটি পুরো জীবনকে এলোমেলো করে দিতে পারে।

আমেরিকান স্লিপ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ঘুমের ব্যাধি রয়েছে। ২৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে এবং সবচেয়ে সাধারণভাবে রিপোর্ট করা ঘুমের সমস্যা হল অনিদ্রা।

ওয়ার্ল্ড স্লিপ সোসাইটির ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে কমিটির ঘুমের ওষুধ ও ঘুম নিয়ে গবেষণা করা একদল চিকিৎসাবিদের হাত ধরে এই দিনের পথচলা শুরু।

কীভাবে বিশ্ব ঘুম দিবস উদযাপন করবেন

ঘুম দিবসের কথা যখন এসেছে তখন এটি পালনের প্রসঙ্গ আসাও স্বাভাবিক। ঘুম দিবস পালন খুবই সহজ। ভালো ঘুমের অভ্যাস এনে দিতে পারে এমন কিছু পদক্ষেপই এ দিবসের প্রধান কাজ। চলুন জেনে নিই দিবসটি উদযাপন করবেন যেভাবে-

ঘুমিয়ে পড়ুন

ঘুমাতে কে না ভালোবাসে। তাই ঘুমিয়েই এই দিনটি উদযাপন করুন। কাজ থেকে ছুটি নিন এবং যতক্ষণ ইচ্ছা ঘুমান। আর তা সম্ভব না হলে অন্তত ২০ মিনিটের জন্য ঘুমিয়ে নিন। ওঠার পরে সতেজ অনুভূতি হলে বুঝতে হবে, এই ঘুমটা সত্যিই আপনার দরকার ছিল।

ঘুমের আগে নিজের যত্ন নিন

শিশুরা ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমিয়ে পড়ে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। বড়দের অনেক সময় ঘুমের আগে গোসল করতে হয়, কারো আবার দাঁত মাজতে হয়। তাই যে কাজ বা অভ্যাস আপনার ঘুমকে ত্বরাণ্বিত করতে পারে সেটির চর্চা করুন। পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শরীর ও মন উভয়কেই শান্ত করতে সক্ষম।

নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো

আপনার ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনিার ভালো ঘুম হবে। এছাড়া একই সময়ে ঘুমালে নির্দিষ্ট ছন্দে ঘুম থেকেও উঠতে পারবেন।

ব্যায়াম

যারা দিনে পর্যাপ্ত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করেন না তাদের রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। তাই ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে দ্রুত হাঁটা বা অন্যান্য কার্ডিও অনুশীলন করতে ভুলবেন না।

ক্যাফেইন থেকে বিরত থাকুন

উদ্দীপক হিসাবে ক্যাফেইন মন এবং শরীরকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, তাই ঘুমানোর কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা আগে কফি, চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভাল।

ঘরের তাপমাত্রা

শোবার ঘর ৬০ এবং ৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১৬-১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন।

ঘুমানোর রুটিনের জন্য ৩০ মিনিট সময় দিন

ঘুমানোর আগে নিজের জন্য অন্তত ৩০টি মিনিট সময় বরাদ্দ রাখুন। শুয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুম না আসতেই পারে। এই সময়টুকু সফট মিউজিক শুনুন অথবা একটু দুর্বোধ্য ধরনের কোনো বই পড়ুন।

আলো কমান

ঘরের আলো কমিয়ে দিন। মস্তিষ্ককে বলুন, এখন ঘুমানোর সময়।

ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে কম্পিউটার, টিভি, স্মার্টফোন বন্ধ করে দিন। এগুলোর নীল আলো ঘুমের ছন্দপতন ঘটায়।