০৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বিএনপি জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী : অধ্যাপক নার্গিস বেগম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / ১১৪

যশোর অফিস ॥ বিএনপি জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী। কোন বায়োবীয় আশ্বাস নয়, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতমতের ভিত্তিতে সরকার গঠনে বিএনপি বিশ্বাসী।

জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বিগত ১৬ বছর বিএনপি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন উপেক্ষা করেও রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে। রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।

বুধবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার আলোকে জ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক , মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমমনা শিক্ষক জোট যশোর জেলা আয়োজিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ এবং শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনার অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। তিনি জাতিকে নিরাক্ষর মুক্ত করতে গণ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিলেন। শিক্ষিত জাতি দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি তিনি অনুধাবন করেছিলেন। তিনি খাদ্যের বিনিময় শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এ দেশের গণতন্ত্র জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বিএনপিও সেই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা বহন করে আসছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্বাবাসীর কাছে অত্যান্ত অমর্যাদাকর এবং ন্যাক্কার জনক অবস্থা পৌঁছে দিয়ে গেছে। সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমরা পরাশক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চাই। বিএনপি বিগত ১৭ বছর শিক্ষকসহ সকল পেশাজীবীদের পাশে ছিল। তাদের সকল যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। বিএনপি মনে করে সকল পেশাজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হলে রাষ্ট্র সুন্দর ভাবে গঠন হবে। জাতি গঠন এবং সমাজের পরির্তনের কারিগর শিক্ষকদের শির দাঁড়া সোজা রাখতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের যে স্বপ্ন নিয়ে এখনো মাঠে আছি, সেটি বাস্তবায়নে এখনো শিক্ষক সমাজেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

সেমিনারের প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিজমে ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে বিএনপি মেরামত করতে চায়।

সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে মেরামত করে কাঙ্খিত জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। জাতির আলোক বর্তিকা শিক্ষক সমাজকে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা শিক্ষকদের ফ্যাসিজম তৈরিতে কাজে লাগিয়েছিল। এই শিক্ষকদের দিয়ে জনগণের ভোট নামক পবিত্র আমানত ক্ষুন্ন করেছিল।

এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা শিক্ষকদের আত্ম সম্মান অত্যান্ত অমর্যাদাকর অবস্থায় নিয়ে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-গরীবের মতো বৈষম্য রয়েছে সেটি সুষম উন্নয়নের অন্তরায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায় তাহলে শিক্ষাক্ষেত্রে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। শিক্ষকদের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। চলতি বাজার মূল্য বিবেচনায় প্রতি বছর শিক্ষকদের বেতন সমন্বয় করা হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার ভারাপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদৎ খানের পরিচালনায় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী টি.এস আইয়ূব, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল কলি, জিয়া স্মৃতি পরিষদ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা খাতুন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান মধু, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শাহীন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাজিব মাহমুদ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখা সভাপতি আবু তৈয়ব, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, শিক্ষক নেতা আলমগীর সিদ্দিকী, হাসানুর রহমান সাকিল প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

বিএনপি জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী : অধ্যাপক নার্গিস বেগম

আপডেট: ১১:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

যশোর অফিস ॥ বিএনপি জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী। কোন বায়োবীয় আশ্বাস নয়, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতমতের ভিত্তিতে সরকার গঠনে বিএনপি বিশ্বাসী।

জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বিগত ১৬ বছর বিএনপি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন উপেক্ষা করেও রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে। রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।

বুধবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার আলোকে জ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক , মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমমনা শিক্ষক জোট যশোর জেলা আয়োজিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ এবং শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনার অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। তিনি জাতিকে নিরাক্ষর মুক্ত করতে গণ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিলেন। শিক্ষিত জাতি দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি তিনি অনুধাবন করেছিলেন। তিনি খাদ্যের বিনিময় শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এ দেশের গণতন্ত্র জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বিএনপিও সেই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা বহন করে আসছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্বাবাসীর কাছে অত্যান্ত অমর্যাদাকর এবং ন্যাক্কার জনক অবস্থা পৌঁছে দিয়ে গেছে। সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমরা পরাশক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চাই। বিএনপি বিগত ১৭ বছর শিক্ষকসহ সকল পেশাজীবীদের পাশে ছিল। তাদের সকল যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। বিএনপি মনে করে সকল পেশাজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হলে রাষ্ট্র সুন্দর ভাবে গঠন হবে। জাতি গঠন এবং সমাজের পরির্তনের কারিগর শিক্ষকদের শির দাঁড়া সোজা রাখতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের যে স্বপ্ন নিয়ে এখনো মাঠে আছি, সেটি বাস্তবায়নে এখনো শিক্ষক সমাজেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

সেমিনারের প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিজমে ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে বিএনপি মেরামত করতে চায়।

সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে মেরামত করে কাঙ্খিত জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। জাতির আলোক বর্তিকা শিক্ষক সমাজকে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা শিক্ষকদের ফ্যাসিজম তৈরিতে কাজে লাগিয়েছিল। এই শিক্ষকদের দিয়ে জনগণের ভোট নামক পবিত্র আমানত ক্ষুন্ন করেছিল।

এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা শিক্ষকদের আত্ম সম্মান অত্যান্ত অমর্যাদাকর অবস্থায় নিয়ে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-গরীবের মতো বৈষম্য রয়েছে সেটি সুষম উন্নয়নের অন্তরায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায় তাহলে শিক্ষাক্ষেত্রে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। শিক্ষকদের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। চলতি বাজার মূল্য বিবেচনায় প্রতি বছর শিক্ষকদের বেতন সমন্বয় করা হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার ভারাপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদৎ খানের পরিচালনায় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী টি.এস আইয়ূব, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল কলি, জিয়া স্মৃতি পরিষদ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা খাতুন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান মধু, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শাহীন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাজিব মাহমুদ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখা সভাপতি আবু তৈয়ব, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, শিক্ষক নেতা আলমগীর সিদ্দিকী, হাসানুর রহমান সাকিল প্রমুখ।