১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পাম্পে ভুয়া সাংবাদিকসহ এক ব্যক্তির ৩ পরিচয়, ঠকবাজ যুবক ধরা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৩

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি ফিলিং স্টেশনে এনজিও (জে ডি আর এম) স্বাস্থ্যকর্মী জরুরি তেল পাওয়ার জন্য নিজেকে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে জরিমানা পরিশোধ করায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার ১৭ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার একমাত্র হিলি ফিলিং স্টেশনে এনজিও স্বাস্থ্যকর্মী ইসমাইল হোসেন (২৮) নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অপরাধে এই জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে সাংবাদিক পরিচয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন এর কাছে। এসময় তার ডাক্তারের সাদা নেফ্রন ও গলায় ফিতা সহ আইডি কার্ড ঝুলানো আছে। সেই মুহূর্তে ওসির সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞেস করে আপনি কোন প্রেসে কাজ করেন। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নিউজ বাংলায় কাজ করে বলে জানান। পরে তার গলায় ফিতাসহ ঝুলানো আইডি কার্ডে (জে ডি আর এম) স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নাম ইসমাইল হোসেন এবং আইডি নাম্বার দেওয়া আছে। অপর পৃষ্ঠায় মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন তাকে বলেন আপনি পুলিশের কাজে বাধা এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন। সেহেতু আপনার সম্পাদক কে ফোন দেন অথবা কথা বলতে বলেন। ওই মুহূর্তে ফোন দিতে ব্যর্থ হয় ইসমাইল হোসেন। পরে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন আমি সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করতেছি। এ ঘটনায় উপস্থিত জনতা সাক্ষী দেয় ইসমাইল হোসেন নিজকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন এবং পুলিশের কাজে বাধা ও তেল দেওয়া বন্ধ করার কথা বলেন।

হিলি ফিলিং স্টেশনের তদারকি অফিসার উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার সে কৈয়ফত চায়। আমার মতে দুই বছরে সাজা হওয়া উচিত।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পাম্পে তেল নিতে আসায় দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযুক্ত সোহেল জরিমানা দিতে স্বীকার করে। তবে জরিমানা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।

অভিযুক্ত ভুয়া সাংবাদিক ওই দিন শেষে রাতে তার ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে তার হিলি ফিলিং স্টেশনের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন আমি এনজিও স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য তেল নেওয়ার কথা বলি তদারকি অফিসারকে তিনি গুরুত্ব দেন নাই। একটু পরে আমার সামনে ওনি অন্যায়ভাবে সিরিয়াল ছাড়াই তেল দেন। তখন আমি প্রতিবাদ করি।

সে লাইভে বলে আমি সাংবাদিকতা শিখছি। ওসি লোক দেখানো আমাকে আমার সম্পাদক সাহেব কে ফোন দিতে বলে কিন্তু আমার ফোন ও ব্যাগ সার্স করে সব নেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি কীভাবে কথা বলবো বলেন। তবে সে হাকিমপুর থানার বাসিন্দা তবে একজন বাটপার ও ঠকবাজ ছেলে। কোন লাইসেন্স ছাড়াই হরিহরপুর বাজারে ডাক্তার হিসেবে চেম্বার খুলে বসেছেন। আমি ঘটনা স্থল থেকে সরাসরি লাইভ এবং ভিডিও করায় আমাকে মন্তব্য করেছে এবং তার ফেসবুক বন্ধুরা বাজে কমেন্ট করেছে। তাই প্রশাসনের নিকট আমার দাবি তার চেম্বার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক এবং আমাকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য ও বাজে কমেন্ট করার বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার চাই। অন্য দিকে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে তার হরিহরপুর বাজারের ভুয়া ডাক্তারি চেম্বারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

পাম্পে ভুয়া সাংবাদিকসহ এক ব্যক্তির ৩ পরিচয়, ঠকবাজ যুবক ধরা

আপডেট: ১১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি ফিলিং স্টেশনে এনজিও (জে ডি আর এম) স্বাস্থ্যকর্মী জরুরি তেল পাওয়ার জন্য নিজেকে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে জরিমানা পরিশোধ করায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার ১৭ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার একমাত্র হিলি ফিলিং স্টেশনে এনজিও স্বাস্থ্যকর্মী ইসমাইল হোসেন (২৮) নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অপরাধে এই জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে সাংবাদিক পরিচয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন এর কাছে। এসময় তার ডাক্তারের সাদা নেফ্রন ও গলায় ফিতা সহ আইডি কার্ড ঝুলানো আছে। সেই মুহূর্তে ওসির সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞেস করে আপনি কোন প্রেসে কাজ করেন। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নিউজ বাংলায় কাজ করে বলে জানান। পরে তার গলায় ফিতাসহ ঝুলানো আইডি কার্ডে (জে ডি আর এম) স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নাম ইসমাইল হোসেন এবং আইডি নাম্বার দেওয়া আছে। অপর পৃষ্ঠায় মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন তাকে বলেন আপনি পুলিশের কাজে বাধা এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন। সেহেতু আপনার সম্পাদক কে ফোন দেন অথবা কথা বলতে বলেন। ওই মুহূর্তে ফোন দিতে ব্যর্থ হয় ইসমাইল হোসেন। পরে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন আমি সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করতেছি। এ ঘটনায় উপস্থিত জনতা সাক্ষী দেয় ইসমাইল হোসেন নিজকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন এবং পুলিশের কাজে বাধা ও তেল দেওয়া বন্ধ করার কথা বলেন।

হিলি ফিলিং স্টেশনের তদারকি অফিসার উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার সে কৈয়ফত চায়। আমার মতে দুই বছরে সাজা হওয়া উচিত।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পাম্পে তেল নিতে আসায় দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযুক্ত সোহেল জরিমানা দিতে স্বীকার করে। তবে জরিমানা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।

অভিযুক্ত ভুয়া সাংবাদিক ওই দিন শেষে রাতে তার ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে তার হিলি ফিলিং স্টেশনের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন আমি এনজিও স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য তেল নেওয়ার কথা বলি তদারকি অফিসারকে তিনি গুরুত্ব দেন নাই। একটু পরে আমার সামনে ওনি অন্যায়ভাবে সিরিয়াল ছাড়াই তেল দেন। তখন আমি প্রতিবাদ করি।

সে লাইভে বলে আমি সাংবাদিকতা শিখছি। ওসি লোক দেখানো আমাকে আমার সম্পাদক সাহেব কে ফোন দিতে বলে কিন্তু আমার ফোন ও ব্যাগ সার্স করে সব নেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি কীভাবে কথা বলবো বলেন। তবে সে হাকিমপুর থানার বাসিন্দা তবে একজন বাটপার ও ঠকবাজ ছেলে। কোন লাইসেন্স ছাড়াই হরিহরপুর বাজারে ডাক্তার হিসেবে চেম্বার খুলে বসেছেন। আমি ঘটনা স্থল থেকে সরাসরি লাইভ এবং ভিডিও করায় আমাকে মন্তব্য করেছে এবং তার ফেসবুক বন্ধুরা বাজে কমেন্ট করেছে। তাই প্রশাসনের নিকট আমার দাবি তার চেম্বার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক এবং আমাকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য ও বাজে কমেন্ট করার বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার চাই। অন্য দিকে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে তার হরিহরপুর বাজারের ভুয়া ডাক্তারি চেম্বারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।