০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের পর ইউপি সচিবের দৌড়ঝাঁপ, দোষ ঢাকতে ‘প্রতিবাদ’ নাটক!

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • /

​স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের দুর্নীতির খবর বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৩ জুন সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই নিজের অপরাধ ও দুর্নীতি ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত এই সচিব।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নিজের পদ ও চেয়ার বাঁচাতে তিনি এখন প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের দোরগোড়ায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সচিব ফরহাদ হোসেন এক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। যে ইউপি সদস্যের (মেম্বার) সাথে যোগসাজশ করে তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছিলেন, তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ওই মেম্বারকে চাপ দিয়ে বা ম্যানেজ করে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি ‘মনগড়া’ প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন তিনি।

​অথচ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কাছে উক্ত ইউপি সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক অডিও ভিডিও বক্তব্য ও অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। নিজের দেওয়া বক্তব্য অস্বীকার করে মেম্বারের এমন ডিগবাজি এবং সচিবের পক্ষে সাফাই গাওয়ার ঘটনাটি সচেতন মহলকে অবাক করেছে।

এদিকে সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গেরও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সেবাপ্রার্থীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়নবাসী জানান, সচিব ফরহাদ হোসেনের কাছে কোনো কাজের জন্য গেলে তিনি অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি অফিস কক্ষের ভেতরেই প্রকাশ্যে ধূমপান (সিগারেট সেবন) করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এছাড়া সময়মতো অফিসে না আসা, সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা এবং যেকোনো ধরনের সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য সচিবের কাছে গেলে ১ম দিন তিনি আমাকে প্রায় ৬ ঘন্টা বসিয়ে রেখে বলেন কম্পিউটার নষ্ট কাল আসেন। পরেরদিন গেলে তিনি সেদিনও কম্পিউটার অন করতে পারেননি। পরে আমাকে বলেন ৪০০ টাকা দেন আমি কাজ করিয়ে এনে দিবো। ৫০ টাকার কাজ আমার কাছথেকে ৪০০ টাকা নিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর সচিব ফরহাদ হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে যে ‘প্রতিবাদ’ নাটক সাজিয়েছেন, তা মূলত তার দুর্নীতিকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন পানিসারা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন ও জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

সংবাদ প্রকাশের পর ইউপি সচিবের দৌড়ঝাঁপ, দোষ ঢাকতে ‘প্রতিবাদ’ নাটক!

আপডেট: ০৭:০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

​স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের দুর্নীতির খবর বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৩ জুন সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই নিজের অপরাধ ও দুর্নীতি ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত এই সচিব।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নিজের পদ ও চেয়ার বাঁচাতে তিনি এখন প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের দোরগোড়ায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সচিব ফরহাদ হোসেন এক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। যে ইউপি সদস্যের (মেম্বার) সাথে যোগসাজশ করে তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছিলেন, তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ওই মেম্বারকে চাপ দিয়ে বা ম্যানেজ করে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি ‘মনগড়া’ প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন তিনি।

​অথচ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কাছে উক্ত ইউপি সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক অডিও ভিডিও বক্তব্য ও অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। নিজের দেওয়া বক্তব্য অস্বীকার করে মেম্বারের এমন ডিগবাজি এবং সচিবের পক্ষে সাফাই গাওয়ার ঘটনাটি সচেতন মহলকে অবাক করেছে।

এদিকে সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গেরও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সেবাপ্রার্থীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়নবাসী জানান, সচিব ফরহাদ হোসেনের কাছে কোনো কাজের জন্য গেলে তিনি অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি অফিস কক্ষের ভেতরেই প্রকাশ্যে ধূমপান (সিগারেট সেবন) করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এছাড়া সময়মতো অফিসে না আসা, সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা এবং যেকোনো ধরনের সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য সচিবের কাছে গেলে ১ম দিন তিনি আমাকে প্রায় ৬ ঘন্টা বসিয়ে রেখে বলেন কম্পিউটার নষ্ট কাল আসেন। পরেরদিন গেলে তিনি সেদিনও কম্পিউটার অন করতে পারেননি। পরে আমাকে বলেন ৪০০ টাকা দেন আমি কাজ করিয়ে এনে দিবো। ৫০ টাকার কাজ আমার কাছথেকে ৪০০ টাকা নিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর সচিব ফরহাদ হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে যে ‘প্রতিবাদ’ নাটক সাজিয়েছেন, তা মূলত তার দুর্নীতিকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন পানিসারা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন ও জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।