০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

“২০ এপ্রিল থেকে খাগড়াছড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন: টিকার আওতায় আসবে ৭৯ হাজার শিশু”

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৩

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি জেলায় হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বৃহৎ টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা। তিনি বলেন, “হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শতভাগ টিকা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য।”
তিনি আরও জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ১১ দিনব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম ৩ দিন জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং পরবর্তী ৮ দিন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন পর্যন্ত) সব শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। চলতি বছরে জেলার মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৩২ জন শিশু। এর মধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ৬৮ হাজার ৭২০ জন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ৭১২ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৯৪৫টি কমিউনিটি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টি কেন্দ্র দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৭৪টি টিকাদান কেন্দ্র চালু থাকবে। পাশাপাশি ৯টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রও কার্যকর থাকবে—এর মধ্যে ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১টি পৌর এলাকায় অবস্থিত।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার কবীর, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অর্ণব চাকমা, জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

ওরিয়েন্টেশন সভায় বক্তারা বলেন, হাম ও রুবেলা একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে এই টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফল হবে এবং শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

“২০ এপ্রিল থেকে খাগড়াছড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন: টিকার আওতায় আসবে ৭৯ হাজার শিশু”

আপডেট: ০৭:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি জেলায় হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বৃহৎ টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা। তিনি বলেন, “হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শতভাগ টিকা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য।”
তিনি আরও জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ১১ দিনব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম ৩ দিন জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং পরবর্তী ৮ দিন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন পর্যন্ত) সব শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। চলতি বছরে জেলার মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৩২ জন শিশু। এর মধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ৬৮ হাজার ৭২০ জন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ৭১২ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৯৪৫টি কমিউনিটি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টি কেন্দ্র দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৭৪টি টিকাদান কেন্দ্র চালু থাকবে। পাশাপাশি ৯টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রও কার্যকর থাকবে—এর মধ্যে ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১টি পৌর এলাকায় অবস্থিত।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার কবীর, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অর্ণব চাকমা, জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

ওরিয়েন্টেশন সভায় বক্তারা বলেন, হাম ও রুবেলা একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে এই টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফল হবে এবং শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।