০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

বিয়ের পরে বান্ধবীর চাকরি

নিউজ ডেস্ক

সাঈদ ইবনে হানিফ :
আমার এক বান্ধবী লেখা পড়ায় খুব ভালো ছিল। চেহারা সুরত ও ভালো থাকায় তার হয়তো ছেলে বন্ধুর অভাব ছিল না। ইতিমধ্যে তার বিয়ে হয়েছে একটা সাধারণ ছেলের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর আমার বান্ধবী একটা মোটা বেতনের চাকরি পেয়ে যায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই বান্ধবী স্বামীকে আর পাত্তা দেয় না।

কারণ তার আরেক কলিগের সাথে পরকীয়া চলছিল, সেই কলিগও মোটা টাকা বেতন পায়। বান্ধবী ওই কলিগ কে বিয়ে করবে ভাবছে। তার মধ্যে এখন একটা ভাব ভাব কাজ করে। তার স্কুল কলেজ জীবনের (নিঃস্বার্থ) বন্ধুদের সাথে ও তেমন আর কথা হয় না । ইতিমধ্যে বান্ধবীর একটা মেয়ে সন্তান হয়েছে। তাতে কী, এক সময় মায়ের বুদ্ধিতে বান্ধবী তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।

কিছুদিন পর সেই প্রেমিক কলিগ বিদেশ চলে যায়। এবং আমার বান্ধবীর সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতদিনে আমার বান্ধবী বুঝতে পেরেছে আসলে সে তার সাথে প্রেমের নামে প্রতারণা করেছে।

বান্ধবী এখন বাবার বাড়িতে থাকে।

২ বছর যাবার পর সে বুঝতে পারে বাবা ভাইয়ের পারিবারে তার গুরুত্ব কতটুকু। একটা সময় সে চরম একাকিত্ব বোধ করে এবং আবার বিয়ের কথা ভাবে। কিন্তু ২ আড়াই বছরের বাচ্চাসহ কেউ বিয়ে করতে রাজি হয় না, যারা রাজি হয় তারা অনেক টা বেমানান, যা তার সাথে মেলে না।

পরে দেড় দুই বছরেও একটা পাত্র জোগাড় হয়নি, বান্ধবী তখন হাড়ে হাড়ে টের পায় বাস্তবতা কত কঠিন।

এদিকে কোম্পানির ব্যবসা খারাপ হওয়ার কারণে, বেশি বেতনের অনেক কর্মী কে ছাঁটাই দেওয়া হলো। আমার বান্ধবীও তার মধ্যে পড়েছে। চাকরি যাওয়ার মাত্র ২ মাসের মধ্যেই বান্ধবী ও তার মেয়ে বাবা ভাইয়ের পরিবারে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

একটা পর্যায়ে পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে যায় । বাবা মা ২ ভাইয়ের বৌরা ননদ ও তার মেয়েকে সংসার ছাড়তে বলছে। এখন আমার বান্ধবী বুঝতে পারছে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে ভেবে নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছে। তার সন্তান এখন বাবাহীন অবস্থায় বড় হচ্ছে। মাঝে মধ্যে সে তার পূর্বের স্কুল কলেজ জীবনের বন্ধুদের সাথে নিজের কষ্টের কথা বলতে চায়। অল্প দিনের মধ্যেই আমার বান্ধবীর সূখের সংসারটা ভেঙ্গে গেছে। এখন আমার বান্ধবী শুধু হায়হুতাশ করে।

এদিকে বান্ধবী যে পুরুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ডিভোর্স দিলো ওই ছেলে ৪ মাসের মাথায় ঠিকই একটা অবিবাহিত মেয়ে কে বিয়ে করে। একটা সাধারণ ছেলের ঘরে অল্প আয় রোজগার হলেও সেই মেয়েটা সুখে শান্তিতে সংসার করছে। অন্যদিকে নিরুপায় বান্ধবী আবার আগের স্বামীর কাছে গিয়ে সংসার করবে বলে আকুতি জানায়।

কিন্তু তিনি বেকার স্ত্রী নিয়ে নতুন সংসারে সুখে আছেন বলে উত্তর দেন এবং বলে ইচ্ছা করলে তুমি মেয়েটিকে আমার কাছে রেখে যেতে পারে।

বাধ্য হয়ে তাই করে আমার বান্ধবী। কিন্তু নিজে কী করবেন, কী খাবে একাকিত্ব জীবনের নিরাপত্তা কোথায় এমন অনেক কিছু ভবতে থাকে। কিন্তু জীবন তো চালাতে হবে। তাই সে গ্রামের পাশে বাজারে একটা লন্ড্রির দোকান খুললো। বুকের মধ্যে পাথর চাপা-প্রথম স্বামী সন্তানের গোপন ভালোবাসা এখন তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। কথা হলো-আমার যে বান্ধবী পুরুষের ওপর পৌরুষত্ব দেখাতে চেয়েছিলেন, সে এখন দিন রাত শত পুরুষের প্যান্ট পাজামা, ধৌত করেন।

উপার্জন করা নারীরা স্বামীকে ছোট করে দেখার পরিণতি কত নির্মম তা আমার বান্ধবী এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫
৪৭

বিয়ের পরে বান্ধবীর চাকরি

আপডেট: ১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

সাঈদ ইবনে হানিফ :
আমার এক বান্ধবী লেখা পড়ায় খুব ভালো ছিল। চেহারা সুরত ও ভালো থাকায় তার হয়তো ছেলে বন্ধুর অভাব ছিল না। ইতিমধ্যে তার বিয়ে হয়েছে একটা সাধারণ ছেলের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর আমার বান্ধবী একটা মোটা বেতনের চাকরি পেয়ে যায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই বান্ধবী স্বামীকে আর পাত্তা দেয় না।

কারণ তার আরেক কলিগের সাথে পরকীয়া চলছিল, সেই কলিগও মোটা টাকা বেতন পায়। বান্ধবী ওই কলিগ কে বিয়ে করবে ভাবছে। তার মধ্যে এখন একটা ভাব ভাব কাজ করে। তার স্কুল কলেজ জীবনের (নিঃস্বার্থ) বন্ধুদের সাথে ও তেমন আর কথা হয় না । ইতিমধ্যে বান্ধবীর একটা মেয়ে সন্তান হয়েছে। তাতে কী, এক সময় মায়ের বুদ্ধিতে বান্ধবী তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।

কিছুদিন পর সেই প্রেমিক কলিগ বিদেশ চলে যায়। এবং আমার বান্ধবীর সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতদিনে আমার বান্ধবী বুঝতে পেরেছে আসলে সে তার সাথে প্রেমের নামে প্রতারণা করেছে।

বান্ধবী এখন বাবার বাড়িতে থাকে।

২ বছর যাবার পর সে বুঝতে পারে বাবা ভাইয়ের পারিবারে তার গুরুত্ব কতটুকু। একটা সময় সে চরম একাকিত্ব বোধ করে এবং আবার বিয়ের কথা ভাবে। কিন্তু ২ আড়াই বছরের বাচ্চাসহ কেউ বিয়ে করতে রাজি হয় না, যারা রাজি হয় তারা অনেক টা বেমানান, যা তার সাথে মেলে না।

পরে দেড় দুই বছরেও একটা পাত্র জোগাড় হয়নি, বান্ধবী তখন হাড়ে হাড়ে টের পায় বাস্তবতা কত কঠিন।

এদিকে কোম্পানির ব্যবসা খারাপ হওয়ার কারণে, বেশি বেতনের অনেক কর্মী কে ছাঁটাই দেওয়া হলো। আমার বান্ধবীও তার মধ্যে পড়েছে। চাকরি যাওয়ার মাত্র ২ মাসের মধ্যেই বান্ধবী ও তার মেয়ে বাবা ভাইয়ের পরিবারে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

একটা পর্যায়ে পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে যায় । বাবা মা ২ ভাইয়ের বৌরা ননদ ও তার মেয়েকে সংসার ছাড়তে বলছে। এখন আমার বান্ধবী বুঝতে পারছে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে ভেবে নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছে। তার সন্তান এখন বাবাহীন অবস্থায় বড় হচ্ছে। মাঝে মধ্যে সে তার পূর্বের স্কুল কলেজ জীবনের বন্ধুদের সাথে নিজের কষ্টের কথা বলতে চায়। অল্প দিনের মধ্যেই আমার বান্ধবীর সূখের সংসারটা ভেঙ্গে গেছে। এখন আমার বান্ধবী শুধু হায়হুতাশ করে।

এদিকে বান্ধবী যে পুরুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ডিভোর্স দিলো ওই ছেলে ৪ মাসের মাথায় ঠিকই একটা অবিবাহিত মেয়ে কে বিয়ে করে। একটা সাধারণ ছেলের ঘরে অল্প আয় রোজগার হলেও সেই মেয়েটা সুখে শান্তিতে সংসার করছে। অন্যদিকে নিরুপায় বান্ধবী আবার আগের স্বামীর কাছে গিয়ে সংসার করবে বলে আকুতি জানায়।

কিন্তু তিনি বেকার স্ত্রী নিয়ে নতুন সংসারে সুখে আছেন বলে উত্তর দেন এবং বলে ইচ্ছা করলে তুমি মেয়েটিকে আমার কাছে রেখে যেতে পারে।

বাধ্য হয়ে তাই করে আমার বান্ধবী। কিন্তু নিজে কী করবেন, কী খাবে একাকিত্ব জীবনের নিরাপত্তা কোথায় এমন অনেক কিছু ভবতে থাকে। কিন্তু জীবন তো চালাতে হবে। তাই সে গ্রামের পাশে বাজারে একটা লন্ড্রির দোকান খুললো। বুকের মধ্যে পাথর চাপা-প্রথম স্বামী সন্তানের গোপন ভালোবাসা এখন তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। কথা হলো-আমার যে বান্ধবী পুরুষের ওপর পৌরুষত্ব দেখাতে চেয়েছিলেন, সে এখন দিন রাত শত পুরুষের প্যান্ট পাজামা, ধৌত করেন।

উপার্জন করা নারীরা স্বামীকে ছোট করে দেখার পরিণতি কত নির্মম তা আমার বান্ধবী এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।