০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভারতে কারাভোগ শেষে ১৭ বাংলাদেশিকে বেনাপোলে হস্তান্তর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৮৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভালো কাজের মিথ্যা প্রলোভনে ভারতে পাচার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর দেশে ফিরেছেন ১৭ বাংলাদেশি নারী ও শিশু।

বুধবার (২৭ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশনের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় বিএসএফ ও পুলিশ।

ফেরত আসা এই ১৭ জনের মধ্যে ১০ জন নারী এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। তারা ভারতের মুম্বাই, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন প্রদেশে ২ থেকে ১২ বছর জেল ও শেল্টারহোমে ছিলেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সী জানান, পাচারের শিকার এই নারী-শিশুরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে যায়। সেখানে মুম্বাই, বহরমপুর, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বারাসাত, লিলুয়া, ও কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে দীর্ঘ সময় ধরে আটক ছিলেন। পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, হবিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাসেল মিয়া জানান, ফেরত আসা নারী-শিশুদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস যশোর ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পরিবারের খোঁজ পেলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তৌহিদুর রহমান, বিজিবি সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ফেরত আসা একজন কিশোরী জানায়, “আমার কোনো দোষ ছিল না। একটা ভালো কাজের প্রলোভনে গিয়ে এতদিন বন্দি থাকতে হলো। এখন শুধু চাই ঘরে ফিরতে, মা-বাবার কাছে যেতে।”

উল্লেখ্য, তারা ভারতের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হোমে আশ্রিত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে—রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন, লিলুয়া হোম, বহরমপুর মানসিক হাসপাতাল, সুকাইনা হোম, এশিয়ান সাইগো সেরেস্তা (২৪ পরগনা), চিলড্রেন ফর গার্লস হোম (নদীয়া), কাজী নজরুল ইসলাম বয়েজ হোম, কিশোলয় চিলড্রেন হোম (বারাসাত), শহিদ বন্দনা স্মৃতি বিহালা ও লিলুয়া এস এস হোম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাচারের শিকার এসব নারীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভারতে কারাভোগ শেষে ১৭ বাংলাদেশিকে বেনাপোলে হস্তান্তর

আপডেট: ১০:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভালো কাজের মিথ্যা প্রলোভনে ভারতে পাচার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর দেশে ফিরেছেন ১৭ বাংলাদেশি নারী ও শিশু।

বুধবার (২৭ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশনের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় বিএসএফ ও পুলিশ।

ফেরত আসা এই ১৭ জনের মধ্যে ১০ জন নারী এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। তারা ভারতের মুম্বাই, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন প্রদেশে ২ থেকে ১২ বছর জেল ও শেল্টারহোমে ছিলেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সী জানান, পাচারের শিকার এই নারী-শিশুরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে যায়। সেখানে মুম্বাই, বহরমপুর, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বারাসাত, লিলুয়া, ও কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে দীর্ঘ সময় ধরে আটক ছিলেন। পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, হবিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাসেল মিয়া জানান, ফেরত আসা নারী-শিশুদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস যশোর ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পরিবারের খোঁজ পেলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তৌহিদুর রহমান, বিজিবি সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ফেরত আসা একজন কিশোরী জানায়, “আমার কোনো দোষ ছিল না। একটা ভালো কাজের প্রলোভনে গিয়ে এতদিন বন্দি থাকতে হলো। এখন শুধু চাই ঘরে ফিরতে, মা-বাবার কাছে যেতে।”

উল্লেখ্য, তারা ভারতের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হোমে আশ্রিত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে—রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন, লিলুয়া হোম, বহরমপুর মানসিক হাসপাতাল, সুকাইনা হোম, এশিয়ান সাইগো সেরেস্তা (২৪ পরগনা), চিলড্রেন ফর গার্লস হোম (নদীয়া), কাজী নজরুল ইসলাম বয়েজ হোম, কিশোলয় চিলড্রেন হোম (বারাসাত), শহিদ বন্দনা স্মৃতি বিহালা ও লিলুয়া এস এস হোম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাচারের শিকার এসব নারীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।