০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:১৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৭১

সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়াঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামানের বিরূদ্ধে দুর্নীতি, কর্মক্ষেত্রে গাফিলতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, তিনি বাঘারপাড়ায় যোগদানের পর থেকে শিক্ষকদের জিম্মি করে এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল, টাইম স্কেল, এরিয়া বিলসহ বিভিন্ন কাজে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সরকারি বরাদ্দের টাকা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নিয়ে আত্মসাত করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে তিনি অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন। ৩ জুন ২০২৪ তারিখে বাঘারপাড়ায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই শুরু করেন বিভিন্ন অনিয়ম। তিনি সরকারি নিয়ম মেনে কোন দিন অফিস করেন না। অফিসে আসেন ১১টার পরে। মাঝে মাঝে অফিসেই আসেন না। যান না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল, টাইম স্কেল, এরিয়া বিলের ফাইল শিক্ষা কর্মকতার্র আইডিতে গেলে তিন থেকে চার হাজার টাকা দিতে হয়। এরিয়া বিল বেশি হলে টাকার অংক বেড়ে যায়। অনেক সময় মোবাইল ফোনে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ডেকে নেওয়া হয় টাকার জন্য।

অভিযোগে আরো জানা যায়, নিজের নামে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই সরকারী কোষাগার হতে হাজার হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। অসংখ্যা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তিনি এ টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন কাজ না করে ভ্রমন ব্যয় ৮৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। অথচ তিনি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেননি বলে বহু প্রতিষ্ঠান প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেয়ে যাচাই করলে উক্ত ভ্রমণ বিল সঠিক নহে তা প্রমানিত হবে। সরকারি বরাদ্দের কম্পিউটার সামগ্রী ২৪ হাজার, মনোহারি ১৫ হাজার, মোটরসাইকেল মেরামত ১৬ হাজার, আসবাবপত্র মেরামত ১২ হাজার, কম্পিউটার মেরামত ১৮ হাজার, কম্পিউটার ও আনুষাঙ্গিক ২৬ হাজার, অফিস সরঞ্জমাদি ১০ হাজার, আসবাবপত্র ১০ হাজার ও লেইস প্রকল্পের ১২ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দের টাকা দিয়ে নামে মাত্র ২টি চেয়ার, ১টি ফ্যান, ১টি আইপিএস, ১টি হেলমেট ও অব্যবহৃত মোটরসাইকেল মেরামত করা হয়েছে। যা নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এসব দুর্নীতি ধরা পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করলে তাকে তেলের খরচ দিতে হয়। এমন কি সম্প্রতি জলবায়ু সচেতনতামূলক বিল ভাউচার অফিসে জমা দিতে গেলে বাঘারপাড়ার ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ’আপনাদের যা খুশি লিখে দেন। এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই’।

এবিষয়ে, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেনের সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: ০৬:১৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়াঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামানের বিরূদ্ধে দুর্নীতি, কর্মক্ষেত্রে গাফিলতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, তিনি বাঘারপাড়ায় যোগদানের পর থেকে শিক্ষকদের জিম্মি করে এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল, টাইম স্কেল, এরিয়া বিলসহ বিভিন্ন কাজে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সরকারি বরাদ্দের টাকা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নিয়ে আত্মসাত করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে তিনি অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন। ৩ জুন ২০২৪ তারিখে বাঘারপাড়ায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই শুরু করেন বিভিন্ন অনিয়ম। তিনি সরকারি নিয়ম মেনে কোন দিন অফিস করেন না। অফিসে আসেন ১১টার পরে। মাঝে মাঝে অফিসেই আসেন না। যান না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল, টাইম স্কেল, এরিয়া বিলের ফাইল শিক্ষা কর্মকতার্র আইডিতে গেলে তিন থেকে চার হাজার টাকা দিতে হয়। এরিয়া বিল বেশি হলে টাকার অংক বেড়ে যায়। অনেক সময় মোবাইল ফোনে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ডেকে নেওয়া হয় টাকার জন্য।

অভিযোগে আরো জানা যায়, নিজের নামে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই সরকারী কোষাগার হতে হাজার হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। অসংখ্যা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তিনি এ টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন কাজ না করে ভ্রমন ব্যয় ৮৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। অথচ তিনি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেননি বলে বহু প্রতিষ্ঠান প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেয়ে যাচাই করলে উক্ত ভ্রমণ বিল সঠিক নহে তা প্রমানিত হবে। সরকারি বরাদ্দের কম্পিউটার সামগ্রী ২৪ হাজার, মনোহারি ১৫ হাজার, মোটরসাইকেল মেরামত ১৬ হাজার, আসবাবপত্র মেরামত ১২ হাজার, কম্পিউটার মেরামত ১৮ হাজার, কম্পিউটার ও আনুষাঙ্গিক ২৬ হাজার, অফিস সরঞ্জমাদি ১০ হাজার, আসবাবপত্র ১০ হাজার ও লেইস প্রকল্পের ১২ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দের টাকা দিয়ে নামে মাত্র ২টি চেয়ার, ১টি ফ্যান, ১টি আইপিএস, ১টি হেলমেট ও অব্যবহৃত মোটরসাইকেল মেরামত করা হয়েছে। যা নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এসব দুর্নীতি ধরা পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করলে তাকে তেলের খরচ দিতে হয়। এমন কি সম্প্রতি জলবায়ু সচেতনতামূলক বিল ভাউচার অফিসে জমা দিতে গেলে বাঘারপাড়ার ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ’আপনাদের যা খুশি লিখে দেন। এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই’।

এবিষয়ে, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেনের সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।