০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সাজেক অবরোধ প্রত্যাহারের পথে, পাঁচ দাবির চারটিতে সমঝোতা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে সাজেকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার আশার আলো দেখা দিয়েছে। সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ফলে শিগগিরই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একই আশার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানও।

ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, অবরোধকারীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে। বাকি একটি দাবি—সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান এবং সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাজেকের অচলাবস্থা নিরসন এবং সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উজোবাজারে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অবরোধকারীদের চার প্রতিনিধি অংশ নেন।

অবরোধকারীদের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির বাবুধন চাকমা ও জিকু চাকমা, কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন জয় চাকমা এবং ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের ঊষাতন চাকমা। বৈঠকের শুরুতে তাঁরা সরকারি প্রতিনিধি দলের কাছে নিজেদের পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরেন। পরে দাবিগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার অগ্রগতি তুলে ধরেন দুই সংসদ সদস্য। এ সময় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। বাকি দাবিটি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা এবং অবরোধকারীদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি। অবরোধ প্রত্যাহার হলে পর্যটননির্ভর সাজেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

সাজেক অবরোধ প্রত্যাহারের পথে, পাঁচ দাবির চারটিতে সমঝোতা

আপডেট: ০১:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে সাজেকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার আশার আলো দেখা দিয়েছে। সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ফলে শিগগিরই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একই আশার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানও।

ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, অবরোধকারীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে। বাকি একটি দাবি—সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান এবং সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাজেকের অচলাবস্থা নিরসন এবং সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উজোবাজারে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অবরোধকারীদের চার প্রতিনিধি অংশ নেন।

অবরোধকারীদের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির বাবুধন চাকমা ও জিকু চাকমা, কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন জয় চাকমা এবং ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের ঊষাতন চাকমা। বৈঠকের শুরুতে তাঁরা সরকারি প্রতিনিধি দলের কাছে নিজেদের পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরেন। পরে দাবিগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার অগ্রগতি তুলে ধরেন দুই সংসদ সদস্য। এ সময় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। বাকি দাবিটি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা এবং অবরোধকারীদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি। অবরোধ প্রত্যাহার হলে পর্যটননির্ভর সাজেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।