খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালন, শিক্ষা ও অধিকার রক্ষার আহ্বান
- আপডেট: ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৪

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
বাল্যবিবাহ একটি কন্যাশিশুর শৈশব কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই কন্যাশিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টিতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
কন্যাশিশুর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়েছে।
বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। এরপর কলেজের সম্মেলন কক্ষে গান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধবিষয়ক নাটক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়ে শিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার। কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উইমেন অ্যান্ড গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু ইনক্লুসিভ এডুকেশন ইন সিএইচটি (ডব্লিউজিইআইই) প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা পিউলি দেওয়ান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে অনেক কন্যাশিশুর শিক্ষাজীবন থেমে যায়। অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকির পাশাপাশি তারা শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। ফলে নিজেদের যোগ্যতা বিকাশ ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়েশিশুর শিক্ষা অব্যাহত রাখা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি করা পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব। মেয়েদের বোঝা মনে না করে তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কোনো কন্যাশিশু বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়লে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জয়া চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শ্রীলা তালুকদার, ডব্লিউজিইআইই প্রকল্পের উপজেলা এডুকেশন ফ্যাসিলিটেটর পিপি রাণী ত্রিপুরা, প্রকল্পের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন কর্মকর্তা ইলেক্সিস চাকমা, জিআইইও কর্মকর্তা এলি ত্রিপুরাসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কানাডা এবং ডব্লিউজিইআইই ও ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস (ইআরআরডি-সিএইচটি) প্রকল্প সহযোগিতা করে।
দিবসটির আয়োজকেরা কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





















