বাঘারপাড়ার খলশী গ্রামের মা ও ছেলেরে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হয়নি আজও
- আপডেট: ০৮:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খলশী গ্রামের নিজ ঘর থেকে মা ও ছেলের হাত পা বাঁধা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কয়েকজনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। ওই ঘটনার পরে গত সোমবার রাতে নিহত গৃহবধুর ভাই অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন।
কিন্তু ঘটনার ৫দিন পার হলেও পুলিশ ওই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন বা আসামী সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ফলে, এই ঘটনা নিয়ে ক্রমেই ধোঁয়াশা আরও ঘনিভূত হচ্ছে। তবে প্রতিবেশী ও নিহতদের নিকট আত্মীয়রা এটাকে নিছক হত্যাকান্ড হিসেবে সন্দেহ করছেন।
পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বিদেশ ফেরত জাকির শিকদারের ঘর থেকে তার স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩৫) ও তার ৭ বছর বয়সী ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রত্যাক্ষদর্শীরা বলেন, পাকা ঘরের একটি কক্ষে খাটের উপর মা জুবায়দার গলায় উড়না পেচানো এবং পাশে শিশু পুত্র জিসানের হাত পা বাধা মরদেহ পড়েছিলো।
এই ঘটনায় তাদের মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটাকে নিছক হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনায় সন্দেহ ভাজন হিসাবে তাৎক্ষণিক ভাবে নিহতের স্বামী জাকির শিকদার ও প্রতিবেশী সিহাব নামে এক যুবককে আটক করে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় নিহত জুবায়দার ছোট ভাই জাহিদ হাসান (১০ আগষ্ট) সোমবার রাতে বাঘারপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এবিষয়ে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যর উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডল জানান, ভিসেরা রিপোর্টের প্রতিবেদন পেলে মরদেহের অবস্থান, আলামত, এবং ঘটনার আগে-পরে পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে মা ও ছেলের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল আলম জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।





















