বিতর্কিত ভিডিও আপলোড করে টমাস বিশ্বাসকে ফাঁসানোর অভিযোগ
- আপডেট: ০৭:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১২

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের রামনগরের চর গ্রামের মৃত ব্যাটন বিশ্বাসের ছেলে টমাস বিশ্বাসকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের নলদীরচর গ্রামের বাসিন্দা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নড়াইল জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদকের চাচাতো ভাই হাদিউউজ্জামান লাল্টু সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন। যেখানে দেখা যায় একযুবক কে তিনি প্রশ্ন করছেন আর সেই যুবক তার প্রশ্নের উত্তরে ক্ষিপ্ত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু শব্দ উচ্চারণ করছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড হওয়ার পরই সেটি ভাইরাল হয়। শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।
এই বিষয়ে জানতে টমাস বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিডিওতে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে স্বীকার করেন এবং তার এই বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ঐদিন
এই পরিস্থিতি সৃষ্টির কারন সম্পর্কে বিস্তারিত এই প্রতিবেদককে জানান। টমাস বিশ্বাস তার বক্তব্যে বলেন আমি ও হাদিউউজ্জামান লাল্টু পরস্পর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
বন্ধুত্বের সম্পর্কের সুবাদে বিভিন্ন সময় জাত ধর্ম নিয়ে কটু কথা বলাটাই হাদিউউজ্জামান লাল্টুর স্বভাব।
৫ই আগস্টের পূর্বে চাচাতো ভাই নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দাপটে চললেও প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য নিজেকে ভিন্ন মতের লোক পরিচয় দেওয়া শুরু করেন।
বিষয়টি আমি স্বাভাবিক ভাবেই নেই।কারণ কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার কোন প্রতি হিংসা নেই।আর সে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে যদি রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে উপকৃত হয় এতে আমারতো কোন ক্ষতি নেই।
ঘটনার দিন সন্ধার পর বৃষ্টিতে ভিজে হাদিউজ্জামান লাল্টুর দোকানের সামনে উপস্থিত হলে সে আমাকে দোকানের ভেতরে ডেকে নেয়। আমিও সরল বিশ্বাসে সেখানে যাই। সে আমাকে মদ পানের জন্য জোরাজোরি করলে আমি তার সাথে পান করি।
মদ পান করা শেষে সে পুর্বপরিকল্পনামতো আমাকে উত্তেজিত করার জন্য আমার জাত ধর্ম রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অনেক আজে বাজে কথা বলে সে। আমি উত্তেজিত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছি। যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।
সে সময় আমি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলাম। আর এই সুযোগটাই সে কাজে লাগিয়ে আমার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় ভিডিও ধারণ করার সময় আমি কিছু মনে করিনি।
কিন্তু পরবর্তীতে সে এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে এলাকার মানুষের কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সে এই কাজ করেছে বলে আমি মনে করি।
আমার বাবার মৃত্যুর পরে আমার মাকে আমিই দেখা শোনা করি। এই ঘটনার পর থেকে আমি আমার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি।
আমি এই সংবাদ মাধ্যমের সহায়তায় নড়াইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটা নেতা কর্মীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহায়তা করবেন এটাই আমার বিশ্বাস।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ৫ই আগস্টের পূর্বে হাদিউজ্জামান লাল্টু ছিল ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে অন্য দলে যোগ দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে।
বিতর্কিত ভিডিও আপলোড করে কিছু ভিউ আর রাজনৈতিক ভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করাই তার নেশা।প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করলে তার পূর্বের অনেক অপকর্মের তথ্য পাবে বলে মনে করে এলাকার সাধারণ মানুষ।
এলাকার সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় হাদিউজ্জামান লাল্টুর এই ধরনের আপত্তিকর উসকানিমুলক ভিডিও আপলোড করে ভিউ ব্যবসা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সাধারণ মানুষের।





















