বাঘারপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের নামে এনআইডি ও ছবি সংগ্রহ করছে একটি চক্র প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা সচেতন মহলের!
- আপডেট: ০৫:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / ৯

সাঈদ ইবন হানিফ : সরকারি কোনো নির্দেশনা বা বরাদ্দ আসার আগেই যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ছবি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ কার্যক্রম চললেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এসব তথ্য সংগ্রহ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,
উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছ থেকে এনআইডির ফটোকপি, সদ্য তোলা ছবি ও মোবাইল নম্বর নেওয়া হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা দাবি করছেন, শিগগিরই সরকারিভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে এবং সে জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। যারা আগে তাদের কাছে এগুলো জমা দিবে তারাই ফ্যামিলি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে এমন প্রতিশ্রুতি ও দেওয়া হচ্ছে। কারণ, তারাই স্ব, স্ব এলাকায় দলীয় কাজ করে থাকেন।
দরাজহাট ইউনিয়নের কড়াইতলা গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, স্থানীয় এক বিএনপি নেতা তাদের বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। তার কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই এনআইডির ফটোকপি ও ছবি জমা দিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বন্দবিলা ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রাম থেকেও। স্থানীয় বাসিন্দা শেফালী বেগম জানান, এলাকার এক বিএনপি নেতা তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এনআইডির ফটোকপি, এক কপি ছবি ও মোবাইল নম্বর নিয়ে গেছেন। তার মতো আরও অনেক নারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কৃষক দলের পরিচয়ধারী এক নেতা বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে নারীদের এনআইডির ফটোকপি, ছবি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। যদি কেউ দলের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “বাঘারপাড়া উপজেলায় এখন পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কোনো বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে বরাদ্দ এলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো অসাধু চক্র যদি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করার চেষ্টা করে, তাহলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় কাউকে কোনো ধরনের অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের নামে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি কোনো ঘোষণা ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।





















