মাগুরায় শ্রমিক সংকট বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তুলতে চরম ভোগান্তি
- আপডেট: ০৯:১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ১৫

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি লক্ষণ কুমার মন্ডল..
চলতি বোরো মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাগুরা জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
মাঠজুড়ে এখন পাকা সোনালি ধানের সমারোহ। তবে ভালো ফলনের আনন্দের মধ্যেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
জেলার সদর, শালিখা, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেছে। অনেক স্থানে ধান কাটার কাজ শুরু হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। এদিকে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় পাকা ধান নুয়ে পড়ছে, কোথাও কোথাও জমিতে পানি জমে ধান ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি শতক জমির ধান কাটতে শ্রমিকেরা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নিচ্ছেন। আবার দৈনিক ভিত্তিতে একজন শ্রমিকের মজুরি ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। খাবার ও যাতায়াত ব্যয় যুক্ত হলে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ছোট ও মাঝারি কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
শালিখা উপজেলার এক কৃষক বলেন, “এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতে পারছি না। বৃষ্টি হলে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ”মহম্মদপুর উপজেলার আরেক কৃষক জানান, “ধান উৎপাদনে সার, সেচ, বীজ ও কীটনাশকে প্রচুর খরচ হয়েছে।
এখন অতিরিক্ত শ্রমিক মজুরি দিয়ে ধান কাটতে গেলে লাভ কমে যাবে।” মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে এবং কম্বাইন হারভেস্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার কার্যক্রম চলছে। যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে শ্রমিক সংকট কিছুটা লাঘব হচ্ছে এবং কৃষকেরা কম সময়ে ও কম খরচে ধান ঘরে তুলতে পারছেন।
কৃষকদের দাবি, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা আরও বাড়াতে হবে এবং অধিক সংখ্যক কম্বাইন হারভেস্টার মাঠে নামাতে হবে। অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।





















