০৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

বগুড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে এক ‘ভণ্ড কবিরাজ’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাকিম রেজাউল করিম নামে এক কবিরাজের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কবিরাজের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিশেষঞ্জের মতামত গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কবিরাজ তার দাওয়াখানার ভেতরে পৃথক আধুনিক কক্ষ বানিয়েছেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে থাকেন। কবিরাজ রেজাউল করিমকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী এ তথ্য জানান।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, হাকিম রেজাউল করিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায় বসবাস করেন। শহরের নামাজগড় এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়াখানা’ নামে তার একটি চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে তিনি কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়েও উন্নতি হয়নি। তার পরিবার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ রেজাউল করিমের সন্ধান পান।

গত ৩ মে সকালে ছাত্রীকে তার বাবা ওই কবিরাজের দাওয়াখানায় নিয়ে আসেন। কবিরাজ ছাত্রীকে দেখার পর মন্তব্য করেন, তাকে জ্বিনে ধরেছে। ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। এক পর্যায়ে তিনি ছাত্রীকে দাওয়াখানার ভেতরের কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি সবাইকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে চিকিৎসার নামে তিনি ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

বিকেলে ১৬,৫০০ হাজার টাকা নিয়ে আবারও আসতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে সেখানে গেলে হাকিম রেজাউল করিম ছাত্রীকে আবারও কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান।

৪ মে ছাত্রীর বাবা বগুড়া সদর থানায় কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়।

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে এক ‘ভণ্ড কবিরাজ’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

আপডেট: ০৭:১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাকিম রেজাউল করিম নামে এক কবিরাজের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কবিরাজের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিশেষঞ্জের মতামত গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কবিরাজ তার দাওয়াখানার ভেতরে পৃথক আধুনিক কক্ষ বানিয়েছেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে থাকেন। কবিরাজ রেজাউল করিমকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী এ তথ্য জানান।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, হাকিম রেজাউল করিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায় বসবাস করেন। শহরের নামাজগড় এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়াখানা’ নামে তার একটি চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে তিনি কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়েও উন্নতি হয়নি। তার পরিবার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ রেজাউল করিমের সন্ধান পান।

গত ৩ মে সকালে ছাত্রীকে তার বাবা ওই কবিরাজের দাওয়াখানায় নিয়ে আসেন। কবিরাজ ছাত্রীকে দেখার পর মন্তব্য করেন, তাকে জ্বিনে ধরেছে। ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। এক পর্যায়ে তিনি ছাত্রীকে দাওয়াখানার ভেতরের কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি সবাইকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে চিকিৎসার নামে তিনি ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

বিকেলে ১৬,৫০০ হাজার টাকা নিয়ে আবারও আসতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে সেখানে গেলে হাকিম রেজাউল করিম ছাত্রীকে আবারও কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান।

৪ মে ছাত্রীর বাবা বগুড়া সদর থানায় কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়।