১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মহান মে দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • /

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে-মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের দিন হিসেবেও বিবেচিত।

শ্রমিক অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক এই দিনটি পালনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এদিকে দিবসটিকে ঘিরে শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য রাখবেন।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হবে। দেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ব্যাপক গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মে দিবস পালিত হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা হয়। শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো।

লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে একই বছরের ৪ মে হে মার্কেট চত্বরে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে বিশ্বব্যাপী এর তীব্র প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে এটি শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মহান মে দিবস আজ

আপডেট: ০৯:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে-মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের দিন হিসেবেও বিবেচিত।

শ্রমিক অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক এই দিনটি পালনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এদিকে দিবসটিকে ঘিরে শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য রাখবেন।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হবে। দেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ব্যাপক গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মে দিবস পালিত হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা হয়। শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো।

লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে একই বছরের ৪ মে হে মার্কেট চত্বরে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে বিশ্বব্যাপী এর তীব্র প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে এটি শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।