১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

পাঁচ দশক পর পিতার কাটা খাল পুনঃখননে আসছেন প্রধানমন্ত্রী : নতুন স্বপ্ন বুনছেন এলাকাবাসী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত যশোরবাসী। যশোর ও উলাশীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে।

পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীতে নিজে হাতে কোদাল নিয়ে খাল খননের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ খাল খননে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাশী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন সম্পন্ন হয়। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বলতে শুধু দুপুরের রুটি ও গুড় খাওয়া। এতেই তারা কাজ চালিয়ে গেছেন কৃষকদের ফসল ফলানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে। এ সময় এলাকার বিস্তীর্ণ জমি বছরের বড় অংশ জুড়ে পানির নিচে থাকত। ছিল তীব্র দারিদ্র্য। খাল কাটার ফলে এ অঞ্চলে ঘটে যায় কৃষি বিপ্লব। সে সময় এই খালের স্বচ্ছ পানি শার্শা উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়। উত্তর শার্শার সোনামুখি ও বনমান্দারসহ ২২টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে পানি নিষ্কাশিত হতো এ খাল দিয়ে। উলাশীর ‘জিয়া খাল’ শার্শার ১১টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রামের সাধারণ মানুষের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটায়।

নতুন করে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চাষি, জেলে বাগদিদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। আবারও খাল ভরা জলে মাছ আর সোনালি ফসলে ভরে উঠবে এলাকা, এমনই স্বপ্ন এলাকাবাসীর।

৫০ বছরের সেই ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ আজ অস্তিত্ব সংকটে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ধ্বংস হয়ে গেছে উলাশী জিয়া মঞ্চও। এমনকি তিনি যে ঘরে রাতযাপন করেছিলেন, সে ঘরও আজ প্রায় অস্তিত্বহীন। আজ পর্যন্ত কেউ খোঁজ নেয়নি এ খাল, মঞ্চ ও ঘরের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খননের ঘোষণায় খালটি ফের আলোচনায় এসেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শার্শার উলাশী জিয়া খালসহ মৃতপ্রায় ২০টি খাল খনন করবে। এরই মধ্যে তালিকা প্রস্তুত ও সম্ভাব্য ব্যয় নিরূপণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত উলাশী খাল খননের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবে পাউবো। চলতি এপ্রিল মাসে এ খালটি খনন করতে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পাউবো কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। খাল খনন হওয়ায় সে সময় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সেই চিন্তা থেকে বিএনপি এবার নির্বাচনে সারা দেশে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, এবার যশোরের শার্শা উপজেলার চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের উলাশী খাল, চার দশমিক ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আমলাই সেতাই খাল ও পাকশিয়া খালের তিন কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে।

উলাশী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপটারে করে এসে স্কুল মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি হেঁটে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়ি তিনি তার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন।

উলাশীতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন শার্শার পাঁচ ভুলাট গ্রামের আব্দুল মজিদ সর্দার। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান উলাশীতে এসে নিজ হাতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মাটি কেটে আমাদের মাথায় তুলে দেন। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবী শহীরাম রাজবংশী বলেন, একসময় এই খালে জাল ফেললেই পুঁটি, শোল, আর দেশি মাছ ধরা পড়তো। বাপ-দাদারা তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আমরা যারা জেলে সম্প্রদায় ও ভূমিহীন ছিলাম। অভাবের সংসারে এই খালের মাছই ছিল বড় ভরসা। কিন্তু পানি কমে যাওয়ায় সেই দেশি মাছ এখন অতীত। এখন জাল নিয়ে নামলে কেবল কাদা আর আগাছা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না।

স্থানীয় সংবাদকর্মী মনিরুল ইসলাম বলেন, খাল খনন কাজ চলাকালীন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালের পাড়েই একটি সাধারণ ভবনে রাত্রিযাপন করেন। পরবর্তীতে ঐ ভবনটি সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক ও কৃষকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। কিন্তু সেই ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। সময়ের বিবর্তনে ভবনের ভেতর থাকা শহিদ জিয়ার ব্যবহৃত ফ্যান, খাট, টেবিল, চেয়ারসহ মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন লুট হয়ে গেছে। সেখানে এখন কেবল পড়ে আছে ভাঙা দেওয়াল আর আগাছা। তিনি বলেন, খালের পাড়ে নির্মিত ঐতিহাসিক ‘জিয়া মঞ্চ’ও আজ বিলুপ্তির পথে। যেখানে এক সময় উন্নয়নের শপথ নেওয়া হতো। সেই মঞ্চের একদিকে গড়ে তোলা হয়েছে গুচ্ছগ্রাম। অপরদিকে উলাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরে উলাশী-যদুনাথপুর খাল সংস্কার না করায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সেই খাল পুনঃখনন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের নিজে হাতে কোদাল নিয়ে খনন করা সেই খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে আগামী ২৭ এপ্রিল আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

Please Share This Post in Your Social Media

পাঁচ দশক পর পিতার কাটা খাল পুনঃখননে আসছেন প্রধানমন্ত্রী : নতুন স্বপ্ন বুনছেন এলাকাবাসী

আপডেট: ১২:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত যশোরবাসী। যশোর ও উলাশীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে।

পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীতে নিজে হাতে কোদাল নিয়ে খাল খননের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ খাল খননে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাশী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন সম্পন্ন হয়। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বলতে শুধু দুপুরের রুটি ও গুড় খাওয়া। এতেই তারা কাজ চালিয়ে গেছেন কৃষকদের ফসল ফলানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে। এ সময় এলাকার বিস্তীর্ণ জমি বছরের বড় অংশ জুড়ে পানির নিচে থাকত। ছিল তীব্র দারিদ্র্য। খাল কাটার ফলে এ অঞ্চলে ঘটে যায় কৃষি বিপ্লব। সে সময় এই খালের স্বচ্ছ পানি শার্শা উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়। উত্তর শার্শার সোনামুখি ও বনমান্দারসহ ২২টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে পানি নিষ্কাশিত হতো এ খাল দিয়ে। উলাশীর ‘জিয়া খাল’ শার্শার ১১টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রামের সাধারণ মানুষের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটায়।

নতুন করে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চাষি, জেলে বাগদিদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। আবারও খাল ভরা জলে মাছ আর সোনালি ফসলে ভরে উঠবে এলাকা, এমনই স্বপ্ন এলাকাবাসীর।

৫০ বছরের সেই ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ আজ অস্তিত্ব সংকটে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ধ্বংস হয়ে গেছে উলাশী জিয়া মঞ্চও। এমনকি তিনি যে ঘরে রাতযাপন করেছিলেন, সে ঘরও আজ প্রায় অস্তিত্বহীন। আজ পর্যন্ত কেউ খোঁজ নেয়নি এ খাল, মঞ্চ ও ঘরের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খননের ঘোষণায় খালটি ফের আলোচনায় এসেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শার্শার উলাশী জিয়া খালসহ মৃতপ্রায় ২০টি খাল খনন করবে। এরই মধ্যে তালিকা প্রস্তুত ও সম্ভাব্য ব্যয় নিরূপণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত উলাশী খাল খননের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবে পাউবো। চলতি এপ্রিল মাসে এ খালটি খনন করতে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পাউবো কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। খাল খনন হওয়ায় সে সময় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সেই চিন্তা থেকে বিএনপি এবার নির্বাচনে সারা দেশে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, এবার যশোরের শার্শা উপজেলার চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের উলাশী খাল, চার দশমিক ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আমলাই সেতাই খাল ও পাকশিয়া খালের তিন কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে।

উলাশী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপটারে করে এসে স্কুল মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি হেঁটে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়ি তিনি তার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন।

উলাশীতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন শার্শার পাঁচ ভুলাট গ্রামের আব্দুল মজিদ সর্দার। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান উলাশীতে এসে নিজ হাতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মাটি কেটে আমাদের মাথায় তুলে দেন। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবী শহীরাম রাজবংশী বলেন, একসময় এই খালে জাল ফেললেই পুঁটি, শোল, আর দেশি মাছ ধরা পড়তো। বাপ-দাদারা তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আমরা যারা জেলে সম্প্রদায় ও ভূমিহীন ছিলাম। অভাবের সংসারে এই খালের মাছই ছিল বড় ভরসা। কিন্তু পানি কমে যাওয়ায় সেই দেশি মাছ এখন অতীত। এখন জাল নিয়ে নামলে কেবল কাদা আর আগাছা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না।

স্থানীয় সংবাদকর্মী মনিরুল ইসলাম বলেন, খাল খনন কাজ চলাকালীন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালের পাড়েই একটি সাধারণ ভবনে রাত্রিযাপন করেন। পরবর্তীতে ঐ ভবনটি সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক ও কৃষকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। কিন্তু সেই ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। সময়ের বিবর্তনে ভবনের ভেতর থাকা শহিদ জিয়ার ব্যবহৃত ফ্যান, খাট, টেবিল, চেয়ারসহ মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন লুট হয়ে গেছে। সেখানে এখন কেবল পড়ে আছে ভাঙা দেওয়াল আর আগাছা। তিনি বলেন, খালের পাড়ে নির্মিত ঐতিহাসিক ‘জিয়া মঞ্চ’ও আজ বিলুপ্তির পথে। যেখানে এক সময় উন্নয়নের শপথ নেওয়া হতো। সেই মঞ্চের একদিকে গড়ে তোলা হয়েছে গুচ্ছগ্রাম। অপরদিকে উলাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরে উলাশী-যদুনাথপুর খাল সংস্কার না করায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সেই খাল পুনঃখনন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের নিজে হাতে কোদাল নিয়ে খনন করা সেই খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে আগামী ২৭ এপ্রিল আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।