১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

যশোরবাসীর কাঙ্খিত রেলসেবার দাবিতে সরব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ডিও লেটার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর রেল চলাচল করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর যশোরবাসী। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের পদ্মবিলা স্টেশনে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন ধরতে যাওয়া ‘বাস্তব তাবিবর্জিত’। যার কারণে পদ্মবিলা জংশনের পরিবর্তে যশোর জংশন থেকে ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে যশোরবাসীর দাবি বাস্তবায়নে সরাসরি রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১৫ এপ্রিল রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে দেওয়া ওই চিঠিতে যশোরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যশোর বিমানবন্দর, বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন এবং দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলসহ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নওয়াপাড়া ও ফুলের রাজধানী গদখালী এই জেলায় অবস্থিত। ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প গৃহীত হলেও বিগত সরকারের আমলে যশোর সদরকে রহস্যজনকভাবে এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছিল। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলায় গিয়ে ট্রেন ধরার পরিকল্পনায় যশোরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। যদিও বর্তমানে বেনাপোল রুটে একটি ট্রেন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত সময়ে চলাচল না করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

প্রতিমন্ত্রী অমিত রেলমন্ত্রীর কাছে যশোরবাসীর চারটি দাবির কথা তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে এবং দর্শনা থেকে একই রুটে আরও এক জোড়া আন্তনগর ট্রেন চালু করা; যাতে যশোরবাসী দিনে গিয়ে দিনেই ঢাকা থেকে কাজ সেরে ফিরতে পারেন। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে অন্তত এক জোড়া লোকাল ট্রেন সংযুক্ত করা। রেলের গতি ও সক্ষমতা বাড়াতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে যশোর জেলার সুবিধাজনক কোনো স্টেশনে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিডি) স্থাপন করা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই রুটগুলো সচল করলে বেনাপোল, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনার বিপুলসংখ্যক যাত্রী পাওয়া সম্ভব হবে; যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরবাসীর কাঙ্খিত রেলসেবার দাবিতে সরব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ডিও লেটার

আপডেট: ১২:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর রেল চলাচল করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর যশোরবাসী। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের পদ্মবিলা স্টেশনে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন ধরতে যাওয়া ‘বাস্তব তাবিবর্জিত’। যার কারণে পদ্মবিলা জংশনের পরিবর্তে যশোর জংশন থেকে ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে যশোরবাসীর দাবি বাস্তবায়নে সরাসরি রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১৫ এপ্রিল রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে দেওয়া ওই চিঠিতে যশোরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যশোর বিমানবন্দর, বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন এবং দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলসহ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নওয়াপাড়া ও ফুলের রাজধানী গদখালী এই জেলায় অবস্থিত। ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প গৃহীত হলেও বিগত সরকারের আমলে যশোর সদরকে রহস্যজনকভাবে এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছিল। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলায় গিয়ে ট্রেন ধরার পরিকল্পনায় যশোরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। যদিও বর্তমানে বেনাপোল রুটে একটি ট্রেন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত সময়ে চলাচল না করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

প্রতিমন্ত্রী অমিত রেলমন্ত্রীর কাছে যশোরবাসীর চারটি দাবির কথা তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে এবং দর্শনা থেকে একই রুটে আরও এক জোড়া আন্তনগর ট্রেন চালু করা; যাতে যশোরবাসী দিনে গিয়ে দিনেই ঢাকা থেকে কাজ সেরে ফিরতে পারেন। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে অন্তত এক জোড়া লোকাল ট্রেন সংযুক্ত করা। রেলের গতি ও সক্ষমতা বাড়াতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে যশোর জেলার সুবিধাজনক কোনো স্টেশনে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিডি) স্থাপন করা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই রুটগুলো সচল করলে বেনাপোল, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনার বিপুলসংখ্যক যাত্রী পাওয়া সম্ভব হবে; যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।