০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থানে মেতেছে বৈশাখী শোভাযাত্রা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন এই বৈশাখী শোভাযাত্রায়। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। উৎসবমুখর এই আয়োজনকে ঘিরে চারুকলায় সকাল থেকেই সাজানো হয়েছে বিভিন্ন মোটিফ ও স্ক্রল পেইন্টিং। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে পাঁচটি বড় মোটিফ—

মোরগ: গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক
হাতি: ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁওয়ের স্মারক
পায়রা: শান্তির প্রতীক
টেপা পুতুল-ঘোড়া: গ্রামীণ ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ
দোতারা: বাউল সংস্কৃতির প্রতি সংহতি ও প্রতিবাদের প্রতীক
এবারের আয়োজনে মোটিফের পাশাপাশি পাঁচটি পটচিত্রও যুক্ত হয়েছে। পটচিত্রগুলো নির্মাণ করেছেন শিল্পী টাইগার নাজির।

পটচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে— সুন্দরবনের জীবিকা ও ‘বনবিবি’, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গাজীর পট এবং মঙ্গলকাব্যের বেহুলা চরিত্র।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই শোভাযাত্রা বহু বছর ধরে চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এটি ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’, ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ এবং দীর্ঘদিন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

শোভাযাত্রা শুরু হবে পুলিশের অশ্বারোহী দল দিয়ে। এরপর জাতীয় পতাকা বহনকারী ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। পর্যায়ক্রমে সাংবাদিক, রাষ্ট্রীয় অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেবেন।

এরপর অংশ নেবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জাতীয় কবিতা পরিষদ। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে পাঁচটি বিশাল মোটিফ, ঢাকের দল এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং। সবশেষে অংশ নেবেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী এবং দেশের ১১৫টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

নববর্ষের এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কেবল উৎসব নয়, বরং বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে আবারও নিজস্ব গুরুত্ব তুলে ধরছে।

Please Share This Post in Your Social Media

নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থানে মেতেছে বৈশাখী শোভাযাত্রা

আপডেট: ১১:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন এই বৈশাখী শোভাযাত্রায়। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। উৎসবমুখর এই আয়োজনকে ঘিরে চারুকলায় সকাল থেকেই সাজানো হয়েছে বিভিন্ন মোটিফ ও স্ক্রল পেইন্টিং। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে পাঁচটি বড় মোটিফ—

মোরগ: গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক
হাতি: ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁওয়ের স্মারক
পায়রা: শান্তির প্রতীক
টেপা পুতুল-ঘোড়া: গ্রামীণ ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ
দোতারা: বাউল সংস্কৃতির প্রতি সংহতি ও প্রতিবাদের প্রতীক
এবারের আয়োজনে মোটিফের পাশাপাশি পাঁচটি পটচিত্রও যুক্ত হয়েছে। পটচিত্রগুলো নির্মাণ করেছেন শিল্পী টাইগার নাজির।

পটচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে— সুন্দরবনের জীবিকা ও ‘বনবিবি’, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গাজীর পট এবং মঙ্গলকাব্যের বেহুলা চরিত্র।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই শোভাযাত্রা বহু বছর ধরে চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এটি ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’, ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ এবং দীর্ঘদিন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

শোভাযাত্রা শুরু হবে পুলিশের অশ্বারোহী দল দিয়ে। এরপর জাতীয় পতাকা বহনকারী ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। পর্যায়ক্রমে সাংবাদিক, রাষ্ট্রীয় অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেবেন।

এরপর অংশ নেবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জাতীয় কবিতা পরিষদ। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে পাঁচটি বিশাল মোটিফ, ঢাকের দল এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং। সবশেষে অংশ নেবেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী এবং দেশের ১১৫টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

নববর্ষের এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কেবল উৎসব নয়, বরং বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে আবারও নিজস্ব গুরুত্ব তুলে ধরছে।