বাঘারপাড়ার ছাতিয়ানতলা বাজারে আগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিঃস্ব ৭ ব্যবসায়ী
- আপডেট: ০৮:০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ১

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা—আর সেই আগুনেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় একে একে ৭ জন ব্যাবসায়ীর স্বপ্ন। বলছিলাম যশোরের বাঘারপাড়ার উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা। যে ঘটনায় অন্তত ৭টি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২৭ এপ্রিল সোমবার রাত ১২টার দিকে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। মুহূর্তেই একের পর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এতে ৫টি মুদি দোকান, ১টি বইয়ের দোকান এবং ১টি মিষ্টির দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর-নড়াইল সড়কের পাশে সফি সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় কেউ কিছু রক্ষা করার সুযোগও পাননি।
খবর পেয়ে বাঘারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে সবকিছু প্রায় শেষ—দোকানজুড়ে পড়ে থাকে শুধু পোড়া ধ্বংসাবশেষ।
ক্ষতিগ্রস্ত জাকারিয়া লাইব্রেরির মালিক কামরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমার দোকানের সব বই আর স্টেশনারি পুড়ে গেছে। প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।”
বাঘারপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার সেকেন্দার আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনায় মোট ৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এসব পরিবার আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।





















