যশোরে গণহত্যা দিবস স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা ও নিরবতা পালন
- আপডেট: ০৭:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুলেল শ্রদ্ধা ও এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে যশোরে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যশোরের ইতিহাসে ভয়াবহ গণহত্যার স্মরণে শনিবার সকালে শহরের শংকরপুর বধ্যভূমিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
গণহত্যা দিবস পালন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সকালে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, আফজাল হোসেন দোদুল, গণহত্যা দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, সদস্য সচিব রিয়াদুর রহমান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইকবাল কবির জাহিদ, জিল্লুর রহমান ভিটু, জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ আহমেদ বাপ্পি, প্রচার সম্পাদক সোহেল আহমেদ, সাংবাদিক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সাজেদ রহমান, প্রণব দাস, আবুল বাশার মুকুল, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা জোগেষ দত্ত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, সদস্য নুর ইমাম বাবুলসহ অনেকে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের পর থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত তৎকালীন বাঙালি ইপিআর, পুলিশ সদস্য এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যশোরে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হামলায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম তার বক্তব্যে বলেন, ২৮ মার্চ ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। একই দিনে যশোর পুলিশ লাইনে বাঙালি পুলিশ সদস্যরাও বিদ্রোহে অংশ নেন। পরবর্তী কয়েকদিন যশোর শহর কার্যত মুক্তিকামী জনতার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
তিনি বলেন, ৪ এপ্রিল যশোর সেনানিবাস থেকে পাকিস্তানি সেনারা বের হয়ে শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং শুরু করে বর্বর গণহত্যা। বারান্দিপাড়া, ষষ্টিতলা, পোস্ট অফিসপাড়া, পুরাতন কসবা, রেলস্টেশন, সদর হাসপাতাল ও কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এতে প্রথম দিনেই কয়েকশ মানুষ শহীদ হন বলে ধারণা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “যশোরে ৪ এপ্রিলের গণহত্যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের বৃহৎ হত্যাযজ্ঞগুলোর একটি। এদিনের মাধ্যমে যে নির্মমতা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস তুলে ধরতেই প্রতি বছর আমরা এ দিবস পালন করি।”
আয়োজকরা জানান, এ দিবস শুধু শোক নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারের দিন।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে যশোর টাউন হল মাঠে গণহত্যা দিবস পালন কমিটির উদ্যোগে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।






















