অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও পাচারে বিজিবির কড়া অবস্থান
- আপডেট: ০৪:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে জোরদার করা হয়েছে টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম।
সোমবার (৩০ মার্চ-২০২৬) বিকেল ৪টায় বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের নবাগত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির সুযোগে যাতে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার না হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, সীমান্ত ও নৌপথে পাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ মজুদ কার্যক্রম বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যশোর রিজিয়নের সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে ১৯২টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৯টি সীমান্তবর্তী ফিলিং স্টেশন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক রুটে ১ হাজার ৯৩৬টি তল্লাশি ও মোবাইল টহল, ১ হাজার ১৩১টি চেকপোস্ট স্থাপন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭টি তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
নদীপথে পাচার প্রতিরোধে স্পিডবোটের মাধ্যমে নিয়মিত ছয়টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জলপথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৯টি জেলার ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে, যাতে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
বিজিবি মনে করে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা সম্ভব। এ প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।





















