নওয়াপাড়ায় বালুতে পুঁতে ৪কোটি টাকার চাঁদা আদায়’ প্রধান আসামি বিএনপি নেতা জনি অবশেষে আটক
- আপডেট: ০৮:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৯৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীরকে বালুতে পুঁতে অস্ত্রের মুখে ৪কোটি টাকা আদায়ের চাঞ্চল্যকর মামলার মূল হোতা নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) আসাদুজ্জামান জনি (৪০) শেষ পর্যন্ত যৌথবাহিনীর জালে ধরা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪-আগস্ট-২০২৫) সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গার রোজ গার্ডেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার সহযোগী তুহিন শেখ (৩৫)কেও আটক করা হয়। তিনি অভয়নগরের চলিশিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি কর্মী। অভিযানের সময় জনিকে সঙ্গে নিয়ে তার কনা ইকো পার্কসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীরের স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছর ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্বামীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আসাদুজ্জামান জনি প্রথমে মারধর করেন, পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দাবি করেন দুই কোটি টাকা। বাধ্য হয়ে সেই টাকা সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে আরটিজিএসের মাধ্যমে জনির প্রতিষ্ঠানের হিসাবে পাঠানো হয়।
তবে এখানেই থেমে থাকেনি নির্যাতন। ১৮ সেপ্টেম্বর ফের শাহনেওয়াজকে অপহরণ করে কনা ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বুকসমান গর্তে পুঁতে আবারও দাবি করা হয় ২কোটি টাকা। এবার আরও ভয়ঙ্কর কায়দায়—আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে চেক, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় আসামিদের তালিকায় রয়েছেন নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন দপ্তরী (সাময়িক বহিষ্কৃত), সৈকত হোসেন হিরা, সম্রাট হোসেনসহ আরও কয়েকজন। চাপে পড়ে সাংবাদিক মফিজের হিসাব নম্বরে পাঠানো হয় ১কোটি টাকার বেশি। একইসঙ্গে নেওয়া হয় আরও এক কোটি টাকার চেক ও ছয়টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর।
এদিকে আসামিদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ এনে আসাদুজ্জামানের বোন মানজারমিন ইলোরা গত মঙ্গলবার যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, শাহনেওয়াজ কবীরের কাছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর পাওনা টাকা পরিশোধে জনি শুধু মাত্র ‘মধ্যস্থ’ করেছিলেন। এ কারণেই আসমা খাতুন ‘মিথ্যা নাটক সাজিয়ে’ ভাইকে ফাঁসিয়েছেন।
যশোর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।




















