০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিনের গুমের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / ১৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জমা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জমা দেন তিনি।

এতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গুমের অভিযোগ জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশে ফ্যাসিস্ট আমলে যারা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এই সমস্ত কিছু নিয়ে যাতে মামলা হয় — সবাই যেন মামলা করেন।” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার যেন হয়, তার জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, “এই জাতির আকাঙ্ক্ষা ন্যায়বিচার। শুধু জুলাই-আগস্ট নয়, বিগত আমলে যত মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সবকিছুর বিচার হবে। এগুলো আমাদের প্রতিশ্রুতি।”

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন। তখন তিনি যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিএনপির অভিযোগ, সালাহউদ্দিন স্বেচ্ছায় ভারত যাননি, তাকে ধরে নিয়ে সীমান্তে পার করে দেওয়া হয়েছিল। এর পেছনে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ছিল।

নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ওই বছরের ১১মে মেঘালয়ের শিলংয়ের পুলিশ উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভারতে প্রবেশ করলেও তার কোনো বৈধ কাগজপত্র সেসময় মেঘালয় পুলিশ না পাওয়ায় ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।

সেই মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই শিলংয়ের আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মেঘালয় পুলিশের করা ওই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর খালাস পান সালাহউদ্দিন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ভারত সরকার আপিল করে । ওই আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শিলং জজ কোর্ট তাকে খালাস দেয়। দ্রুত যেন তাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়, সেই নির্দেশনা দেয় আদালত।

পাসপোর্ট না থাকায় সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশে ফিরেছেন ট্র্যাভেল পাস (ট্রাভেল পারমিট) নিয়ে । তিনি এই পারমিটের জন্য গৌহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে আবেদন করেছিলেন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালাহ উদ্দিন আহমেদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

Please Share This Post in Your Social Media

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিনের গুমের অভিযোগ

আপডেট: ০৫:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জমা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জমা দেন তিনি।

এতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গুমের অভিযোগ জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশে ফ্যাসিস্ট আমলে যারা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এই সমস্ত কিছু নিয়ে যাতে মামলা হয় — সবাই যেন মামলা করেন।” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার যেন হয়, তার জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, “এই জাতির আকাঙ্ক্ষা ন্যায়বিচার। শুধু জুলাই-আগস্ট নয়, বিগত আমলে যত মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সবকিছুর বিচার হবে। এগুলো আমাদের প্রতিশ্রুতি।”

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন। তখন তিনি যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিএনপির অভিযোগ, সালাহউদ্দিন স্বেচ্ছায় ভারত যাননি, তাকে ধরে নিয়ে সীমান্তে পার করে দেওয়া হয়েছিল। এর পেছনে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ছিল।

নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ওই বছরের ১১মে মেঘালয়ের শিলংয়ের পুলিশ উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভারতে প্রবেশ করলেও তার কোনো বৈধ কাগজপত্র সেসময় মেঘালয় পুলিশ না পাওয়ায় ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।

সেই মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই শিলংয়ের আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মেঘালয় পুলিশের করা ওই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর খালাস পান সালাহউদ্দিন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ভারত সরকার আপিল করে । ওই আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শিলং জজ কোর্ট তাকে খালাস দেয়। দ্রুত যেন তাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়, সেই নির্দেশনা দেয় আদালত।

পাসপোর্ট না থাকায় সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশে ফিরেছেন ট্র্যাভেল পাস (ট্রাভেল পারমিট) নিয়ে । তিনি এই পারমিটের জন্য গৌহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে আবেদন করেছিলেন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালাহ উদ্দিন আহমেদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।