সীমান্তে তেল পাচার ও অবৈধ মজুদ রোধে বিজিবির জোরালো অভিযান
- আপডেট: ০৬:১৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পাচার ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জোরালো অভিযান শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন। একই সঙ্গে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য পশু চোরাচালান ঠেকাতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিটের ১১৬টি বিওপি থেকে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব টহলের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তেল পাচার ও মজুদ পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানে জোর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বিশেষ তল্লাশি ও নজরদারি অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ চেকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তেল পাচারের সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪২৫টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং ৯১৩টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ৮৮৪টি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে ৩৩টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় এবং এক ব্যক্তিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুইজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ৬৬টি যৌথ নজরদারি ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নতুন চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান আরও জানায়, সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।





















