নিজস্ব প্রতিবেদক : শার্শার লক্ষনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা খায়রুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

জানা যায়, শাশার্র হরিনাপোতা মৌজার সরকারি স্বার্থযুক্ত সম্পত্তি দাখিলার মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করে সরকারি স্বার্থ ক্ষুন্ন করে গুরুতর অপরাধ করেছেন। যা সরকারি কর্মচারি বিধিমালা ২০১৮ এর ২(খ), ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধি মোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতির সামিল যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান।
চাকুরিতে বহাল রাখা রাজস্ব প্রশাসনের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি বিধায় সরকারি কর্মচারি বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ১২(১) মোতাবেক গত ১৮ জানুয়ারি তারিখ থেকে তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। যার স্মারক নং- ০৫.৪৪.৪১০০. ০০৫.১৬. ০৭৬.২৩-৮১ (২৫), তারিখ ১৮/০১/২০২৩ ইং। 
ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারীর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দাখিলা প্রদানের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। দীর্ঘ তদন্তের পর ঘটনা সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৮ জানুয়ারী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জানা যায়, শার্শার হরিনাপোতা মৌজার এস. এ দাগ নং ৪৭৪ আর এস খতিয়ান ৭৭, দাগ নং ২১৩ জমির পরিমান ৩০ শতক। যা সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি। কিন্তু সরকারি এ সম্পত্তির কাগজপত্র জাল জালিয়াতির মাধ্যমে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান সুকৌশলে আবু তাহের ওরফে আবু তালেব নামে একজন মৃত্যু ব্যক্তির নামে খতিয়ানভুক্ত করেন। পরে ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর একটি খাজনার দাখিলা প্রদান করেন। যার দাখিলার ক্রমিক নং ৪১৯০২১০০০৩৬৯। সরকারী এ সম্পত্তি শ্রেনীভুক্তে বাস্ত হলেও দাখিলায় দেখানো হয়েছে কৃষি। এ দিকে দাখিলা পাওয়ার পর আবু তাহের এর ওয়ারেশ সাহেব আলী দাখিলা সূত্রে পাওয়া এ সম্পত্তি একই সালের ২৬ অক্টোবর একই গ্রামের হাবিবুল্লাহ্র ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের নিকট কবলা দলিলের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। যার দলিল নং-৮৭৫২। দলিলের টোকেন নং- ৮৭৫৪।

এই বিষয় লক্ষণপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে জেলা প্রশাসক সরকারি জমির দাখিলা প্রদানের ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। অভিযোগকারী উপজেলার লক্ষনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন বলেন, ইউনিয়ন ভুমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তার খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য। তিনি অনেক অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এলাকার জমির মালিকরা তার দ্বারা অনেক হয়রানীর শিকার হয়েছেন। সে কারণে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। তদন্তে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রশাসক মহোয়ের এক পত্রে গত ১৮ জানুয়ারি তারিখ থেকে তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে চুড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।