সরকার একা সব মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না, সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া
- আপডেট: ০৭:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৪

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
সরকারের একার পক্ষে দেশের প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি শহরের পর্যটন মোটেলে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সরকারের অন্যান্য দপ্তরের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম যদি একে অপরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ভাগাভাগি করা যায়, তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং সমাজে তার ইতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি দৃশ্যমান হবে।
তিনি বলেন, কোনো সরকারের পক্ষেই একটি দেশের সব মানুষের প্রয়োজন শতভাগ পূরণ করা সম্ভব নয়। এর অন্যতম কারণ হলো সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং জনবল ও প্রশাসনিক বাস্তবতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না।
এ সময় তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এনজিওগুলো তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে আন্তরিকতা, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে যে সেবা দিচ্ছে, তা সমাজের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সেবার ঘাটতি পূরণ করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতার প্রশংসা করে এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোথাও কোথাও দায়িত্ববোধ, সমন্বয় ও সেবার মানের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত গতি ব্যাহত হয়। তাই জনগণের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।
শিশু পুষ্টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাবারাং কল্যাণ সমিতি যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা চাই, আমাদের শিশুরা শুধু জন্ম নিক তা নয়—তারা যেন সুস্থ, সবল ও মেধাবী নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, শৈশবে পুষ্টির ঘাটতি একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে তার কর্মক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও জীবনমানের ওপর পড়ে। ফলে ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—সবার জন্যই এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরও বলেন, শিশু পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,এবং সভা সঞ্চালনা করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।
এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য রক্তোৎপল ত্রিপুরা এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর টিম লিডার এস এম খলেদুল আহসান।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধি, শিশু ও মাতৃপুষ্টির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যগত সহনশীলতা জোরদার এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে পার্বত্য অঞ্চলের শিশু ও পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। তারা প্রকল্পটি সফল বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






















