০২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগকে চায় না জামায়াত, ইসিতে চিঠি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের পদধারী ও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।

সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এ বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দেয় জামায়াত।

দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। পরে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করলে দলটি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

সরকার আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, তারা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

চিঠিতে জামায়াত আরও কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিধান স্পষ্ট করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিয়োজিত প্রশাসক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা।

এ ছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরাসরি নারী সদস্য নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশও করেছে দলটি।

Please Share This Post in Your Social Media

স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগকে চায় না জামায়াত, ইসিতে চিঠি

আপডেট: ০৬:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের পদধারী ও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।

সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এ বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দেয় জামায়াত।

দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। পরে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করলে দলটি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

সরকার আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, তারা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

চিঠিতে জামায়াত আরও কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিধান স্পষ্ট করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিয়োজিত প্রশাসক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা।

এ ছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরাসরি নারী সদস্য নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশও করেছে দলটি।