১২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ১৪

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের কারণে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। পরে দুপুরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ৫ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামের এক ব্যক্তিকে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মারধর করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ও প্রতিশোধ নিতে রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হন। এতে মানিকদাহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে চূড়ান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। একপর্যায়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে দাঙ্গাবাজরা।

৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও ফরিদপুরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, শত শত গ্রামবাসী মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। পুনরায় সংঘাত এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট: ০৫:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের কারণে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। পরে দুপুরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ৫ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামের এক ব্যক্তিকে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মারধর করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ও প্রতিশোধ নিতে রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হন। এতে মানিকদাহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে চূড়ান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। একপর্যায়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে দাঙ্গাবাজরা।

৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও ফরিদপুরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, শত শত গ্রামবাসী মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। পুনরায় সংঘাত এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।