১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদা না দেওয়ায় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নিখিল ঘোষকে এলোপাতাড়ি হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন স্থানীয় বিএনপি নেতা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির ওপর হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি পূজা উদযাপন পরিষদ ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে । বর্তমানে তিনি যশোর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত অজিত ঘোষের ছেলে নিখিল ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী এবং তার ভাই বিএনপি সদস্য হাকিম আলী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। নিখিল ঘোষ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণত সম্পাদক হওয়ায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে লিয়াকত আলী ও হাকিম আলী তাকে নানা ধরনের হুমকি হুমকি দিতে থাকে ও চাঁদা দাবী করে। প্রাণভয়ে নিখিল ঘোষ
এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

প্রায় সাত মাস পালিয়ে থাকার পর, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এলাকায় ফিরিয়ে আনেন। আশ্বাস পেয়ে তিনি এলাকায় ফেরেন এবং নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি শান্ত হতেই লিয়াকত ও হাকিম পুনরায় সেই ১০ লক্ষ টাকা দাবি শুরু করেন।

গত ২৪ তারিখ সকালে আনুমানিক ১১.০০ টার সময় স্থানীয় আমবটতলা বাজারে প্রতিদিনের মতো নিখিল ঘোষ দুধ বিক্রি করতে যায়। দুধ বিক্রি করে বাড়িতে ফেরার পথে লিয়াকত আলী ও হাকিম আলী মটোরসাইকেলে পিছন থেকে সামনে গিয়ে তার পথরোধ করেন।

তারা আবারও সেই ১০ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবী করেন। নিখিল ঘোষ সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিয়াকত আলী কোমর থেকে হাতুড়ি বের করে (পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে) তাকে বেধড়ক মারধর করেন, যার ফলে তার ডান হাত ভেঙে যায়। এসময় অপর ভাই হাকিম আলীও তাকে শারীরিক লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিখিল ঘোষ আরো জানান যে, ২০১৪ সালে লিয়াকত আলী ও তার ভাই হাকিম আলী তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন। তখন তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। তখনও নিখিল ঘোষের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। তখন স্থানীয় নেতা কর্মীদের সমঝোতায় মামলা তুলে নেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই নিখিল ঘোষের পরিবারের সাথে তাদের বিবাদ। আহত নিখিল ঘোষ ও তার স্ত্রী জানান, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

চাঁদা না দেওয়ায় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নিখিল ঘোষকে এলোপাতাড়ি হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন স্থানীয় বিএনপি নেতা

আপডেট: ১০:৪২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির ওপর হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি পূজা উদযাপন পরিষদ ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে । বর্তমানে তিনি যশোর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত অজিত ঘোষের ছেলে নিখিল ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী এবং তার ভাই বিএনপি সদস্য হাকিম আলী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। নিখিল ঘোষ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণত সম্পাদক হওয়ায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে লিয়াকত আলী ও হাকিম আলী তাকে নানা ধরনের হুমকি হুমকি দিতে থাকে ও চাঁদা দাবী করে। প্রাণভয়ে নিখিল ঘোষ
এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

প্রায় সাত মাস পালিয়ে থাকার পর, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এলাকায় ফিরিয়ে আনেন। আশ্বাস পেয়ে তিনি এলাকায় ফেরেন এবং নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি শান্ত হতেই লিয়াকত ও হাকিম পুনরায় সেই ১০ লক্ষ টাকা দাবি শুরু করেন।

গত ২৪ তারিখ সকালে আনুমানিক ১১.০০ টার সময় স্থানীয় আমবটতলা বাজারে প্রতিদিনের মতো নিখিল ঘোষ দুধ বিক্রি করতে যায়। দুধ বিক্রি করে বাড়িতে ফেরার পথে লিয়াকত আলী ও হাকিম আলী মটোরসাইকেলে পিছন থেকে সামনে গিয়ে তার পথরোধ করেন।

তারা আবারও সেই ১০ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবী করেন। নিখিল ঘোষ সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিয়াকত আলী কোমর থেকে হাতুড়ি বের করে (পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে) তাকে বেধড়ক মারধর করেন, যার ফলে তার ডান হাত ভেঙে যায়। এসময় অপর ভাই হাকিম আলীও তাকে শারীরিক লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিখিল ঘোষ আরো জানান যে, ২০১৪ সালে লিয়াকত আলী ও তার ভাই হাকিম আলী তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন। তখন তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। তখনও নিখিল ঘোষের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। তখন স্থানীয় নেতা কর্মীদের সমঝোতায় মামলা তুলে নেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই নিখিল ঘোষের পরিবারের সাথে তাদের বিবাদ। আহত নিখিল ঘোষ ও তার স্ত্রী জানান, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।