০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

জানুয়ারির শুরুতেই যশোরের জলাভূমিতে শীতের অতিথি পাখির সমাগম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১১৫

সাব্বির হোসেন, যশোর : শীতের মৌসুম শুরু হতেই জানুয়ারির শুরু থেকে যশোরের বিভিন্ন জলাভূমিতে শীতের অতিথি পাখির সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যশোরের বিভিন্ন জলাভূমি, যেমন কেশবপুর, শার্শার পদ্মবিল, বুকভরা বাওড়, প্যাঁচের বাওড়সহ বিস্তীর্ণ জলাশয় এলাকায় সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চল থেকে পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে ছুটে আসছে। এসব অতিথি পাখির আগমনে পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে দল বেঁধে উড়ে বেড়ানো পাখির কলরব ও জলাশয়ের বুকে ভেসে থাকা নানা প্রজাতির হাঁস, জলপাখি ও ছোট পরিযায়ী পাখি শীতের যশোরকে করে তুলেছে আরও মনোমুগ্ধকর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরুতেই এবছর পাখির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরিবেশবিদরা জানান, শীতপ্রধান দেশগুলোতে তীব্র ঠান্ডা ও খাদ্যের সংকট দেখা দিলে এসব পাখি নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে বাংলাদেশে আসে। যশোর অঞ্চলের জলাভূমি ও বাওড়গুলো তাদের জন্য নিরাপদ বিচরণভূমি হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে অতিথি পাখির উপস্থিতি বাড়ে।

তবে শীতের অতিথি পাখির আগমনের পাশাপাশি পাখি শিকার ও অবাধ বিচরণে বিঘ্ন একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও অবৈধভাবে পাখি শিকার, জাল ফেলা ও ফাঁদ পেতে পাখি ধরার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীরা শীতের অতিথি পাখি সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি, শিকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অতিথি পাখির সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে যশোরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পর্যটন সম্ভাবনা ও জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে।

শীত শেষে ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে এসব অতিথি পাখি আবার নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যাবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

জানুয়ারির শুরুতেই যশোরের জলাভূমিতে শীতের অতিথি পাখির সমাগম

আপডেট: ১২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাব্বির হোসেন, যশোর : শীতের মৌসুম শুরু হতেই জানুয়ারির শুরু থেকে যশোরের বিভিন্ন জলাভূমিতে শীতের অতিথি পাখির সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যশোরের বিভিন্ন জলাভূমি, যেমন কেশবপুর, শার্শার পদ্মবিল, বুকভরা বাওড়, প্যাঁচের বাওড়সহ বিস্তীর্ণ জলাশয় এলাকায় সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চল থেকে পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে ছুটে আসছে। এসব অতিথি পাখির আগমনে পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে দল বেঁধে উড়ে বেড়ানো পাখির কলরব ও জলাশয়ের বুকে ভেসে থাকা নানা প্রজাতির হাঁস, জলপাখি ও ছোট পরিযায়ী পাখি শীতের যশোরকে করে তুলেছে আরও মনোমুগ্ধকর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরুতেই এবছর পাখির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরিবেশবিদরা জানান, শীতপ্রধান দেশগুলোতে তীব্র ঠান্ডা ও খাদ্যের সংকট দেখা দিলে এসব পাখি নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে বাংলাদেশে আসে। যশোর অঞ্চলের জলাভূমি ও বাওড়গুলো তাদের জন্য নিরাপদ বিচরণভূমি হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে অতিথি পাখির উপস্থিতি বাড়ে।

তবে শীতের অতিথি পাখির আগমনের পাশাপাশি পাখি শিকার ও অবাধ বিচরণে বিঘ্ন একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও অবৈধভাবে পাখি শিকার, জাল ফেলা ও ফাঁদ পেতে পাখি ধরার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীরা শীতের অতিথি পাখি সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি, শিকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অতিথি পাখির সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে যশোরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পর্যটন সম্ভাবনা ও জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে।

শীত শেষে ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে এসব অতিথি পাখি আবার নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যাবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।