১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যশোরের বসুন্দিয়ায় মাদক কারবারীদের অত্যাচার ও হুমকিতে সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫৪

বসুন্দিয়া প্রতিবেদক ঃ যশোরের বসুন্দিয়ার বানিয়ারগাতি গ্রামের কতিপয় মাদক কারবারীর অত্যাচার ও তাদের প্রতিনিয়ত খুন জখমের হুমকিতে আতংকিত হয়ে অবশেষে গ্রাম ছাড়া হয়েছে আব্দুর রাজ্জাকের পুরো পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছেন, জহুরুল, শহিদুল গং নামের ওই চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলেও প্রশাসনের নিরবতার কারণে প্রাণভয়ে পালিয়ে দিন কাটাচ্ছে ওই পরিবারের প্রায় ১০/১২ জন সদস্য। এমন সব অভিযোগ এনে (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাব বসুন্দিয়ার হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক জানান,
সিংগিয়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তিনি ও তার পরিবার। আব্দুর রাজ্জাক পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মুড়ি ভাজা, চিড়ার মোয়া তৈরি, চিপস, পটেটো, পপকন, মুড়ির মোয়া তৈরির ছোট্ট কারখানা চালিয়ে এবং দুই ছেলের দিনমজুর কাজের টাকায় চলত তাদের পুরো সংসার। তাদের নিকটতম প্রতিবেশী নজরুল (৫০) তার ছেলে জহুরুল (২০) ও শহিদুল মাদক দ্রব্য কারবারির সাথে সংশ্লিষ্ট। তারা বিভিন্ন সময় আব্দুর রাজ্জাকের ঘরে মাদকদ্রব্য রাখার প্রস্তাব দেয় জহুরুল গং। তাদের এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় পরিবারটির উপর অত্যাচার ও হুমকি ধামকি দিতে থাকে।

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর যাবত পরিবারের সকলের উপর বিভিন্ন রকম অত্যাচার এবং মটর ও ব্যবসায়িক মালামাল চুরি করে ভয় ভীতি দেখিয়ে চলে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের বিষয়গুলো জানানোর পরও কেউ কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, তাদের বাড়িতে প্রকাশ্যে বহিরাগতদের এনে মাদক সেবন করানো হত । ঘর থেকে নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে নেওয়া হতো। এক সময়ে তার ব্যবসায়িক সকল কর্মকান্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। অস্ত্র পাতির ভয় দেখিয়ে তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া পুতনি রিতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেয়।

উপায়ান্তর না দেখে আব্দুর রাজ্জাক নিজেদের বাঁচাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ ইংরেজি তারিখে জহুরুলদের বিরুদ্ধে নেশা দ্রব্য বিক্রি খুন জখমের হুমকি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় মাদক বিক্রেতা জহুরুল ও শহিদুলরা, বহাল তবিয়তে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের ভয়ে তার পরিবার আজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে (আইন ও প্রশাসনের কাছে) তিনি ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা এবং এই ঘটনার প্রতিকার চেয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরের বসুন্দিয়ায় মাদক কারবারীদের অত্যাচার ও হুমকিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ১১:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বসুন্দিয়া প্রতিবেদক ঃ যশোরের বসুন্দিয়ার বানিয়ারগাতি গ্রামের কতিপয় মাদক কারবারীর অত্যাচার ও তাদের প্রতিনিয়ত খুন জখমের হুমকিতে আতংকিত হয়ে অবশেষে গ্রাম ছাড়া হয়েছে আব্দুর রাজ্জাকের পুরো পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছেন, জহুরুল, শহিদুল গং নামের ওই চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলেও প্রশাসনের নিরবতার কারণে প্রাণভয়ে পালিয়ে দিন কাটাচ্ছে ওই পরিবারের প্রায় ১০/১২ জন সদস্য। এমন সব অভিযোগ এনে (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাব বসুন্দিয়ার হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক জানান,
সিংগিয়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তিনি ও তার পরিবার। আব্দুর রাজ্জাক পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মুড়ি ভাজা, চিড়ার মোয়া তৈরি, চিপস, পটেটো, পপকন, মুড়ির মোয়া তৈরির ছোট্ট কারখানা চালিয়ে এবং দুই ছেলের দিনমজুর কাজের টাকায় চলত তাদের পুরো সংসার। তাদের নিকটতম প্রতিবেশী নজরুল (৫০) তার ছেলে জহুরুল (২০) ও শহিদুল মাদক দ্রব্য কারবারির সাথে সংশ্লিষ্ট। তারা বিভিন্ন সময় আব্দুর রাজ্জাকের ঘরে মাদকদ্রব্য রাখার প্রস্তাব দেয় জহুরুল গং। তাদের এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় পরিবারটির উপর অত্যাচার ও হুমকি ধামকি দিতে থাকে।

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর যাবত পরিবারের সকলের উপর বিভিন্ন রকম অত্যাচার এবং মটর ও ব্যবসায়িক মালামাল চুরি করে ভয় ভীতি দেখিয়ে চলে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের বিষয়গুলো জানানোর পরও কেউ কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, তাদের বাড়িতে প্রকাশ্যে বহিরাগতদের এনে মাদক সেবন করানো হত । ঘর থেকে নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে নেওয়া হতো। এক সময়ে তার ব্যবসায়িক সকল কর্মকান্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। অস্ত্র পাতির ভয় দেখিয়ে তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া পুতনি রিতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেয়।

উপায়ান্তর না দেখে আব্দুর রাজ্জাক নিজেদের বাঁচাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ ইংরেজি তারিখে জহুরুলদের বিরুদ্ধে নেশা দ্রব্য বিক্রি খুন জখমের হুমকি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় মাদক বিক্রেতা জহুরুল ও শহিদুলরা, বহাল তবিয়তে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের ভয়ে তার পরিবার আজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে (আইন ও প্রশাসনের কাছে) তিনি ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা এবং এই ঘটনার প্রতিকার চেয়েছেন।