০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ অনুষ্ঠিত হবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘জাতীয় জুলাই সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিকাল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বসবে এই ঐতিহাসিক আসর। এতে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টাসহ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন।

অনুষ্ঠানটি দেশের সব টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘যেখানেই থাকুন— বাড়িতে, পথে, দোকানে, কারখানায়, মাঠে কিংবা খেলাধুলার আসরে— সরাসরি সম্প্রচারে যুক্ত হোন এবং এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশীদার হোন।’

জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় সব ধরনের ড্রোণ ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

অনুষ্ঠানটির প্রাক্কালে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অতি জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকা্শ করেন, সব রাজনৈতিক দল উৎসবমুখর পরিবেশে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। একই সঙ্গে তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, এই ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষরের ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের অব্যাহত ধারার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একটা নির্দিষ্ট অঙ্গীকারে পৌঁছাবে।

সেই সঙ্গে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে এই জাতীয় সনদ একটি দিকদর্শন হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রায় আট মাস ধরে তিন ধাপে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শেষে স্বাক্ষরিত হয়ে ১৭ অক্টোবর চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’।

এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে।

গত ১৬ আগস্ট রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো পূর্ববর্তী খসড়ায় কিছু ত্রুটি থাকায়, তা সংশোধন করে নির্ভুল খসড়া পাঠানো হয়।

এরপর গত বুধবার (২০ আগস্ট) কমিশনের পক্ষ থেকে খসড়াটির ওপর নিজেদের যে কোনো ধরনের মতামত প্রদানের সময় ২২ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সকলের মতামত পর্যালোচনা করে এবং নির্ভুল আকারে জুলাই সনদ লিখিত আকারে চূড়ান্ত করে, গত ১৪ অক্টোবর সনদের চূড়ান্ত কপি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর

আপডেট: ০৬:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ অনুষ্ঠিত হবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘জাতীয় জুলাই সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিকাল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বসবে এই ঐতিহাসিক আসর। এতে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টাসহ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন।

অনুষ্ঠানটি দেশের সব টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘যেখানেই থাকুন— বাড়িতে, পথে, দোকানে, কারখানায়, মাঠে কিংবা খেলাধুলার আসরে— সরাসরি সম্প্রচারে যুক্ত হোন এবং এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশীদার হোন।’

জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় সব ধরনের ড্রোণ ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

অনুষ্ঠানটির প্রাক্কালে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অতি জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকা্শ করেন, সব রাজনৈতিক দল উৎসবমুখর পরিবেশে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। একই সঙ্গে তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, এই ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষরের ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের অব্যাহত ধারার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একটা নির্দিষ্ট অঙ্গীকারে পৌঁছাবে।

সেই সঙ্গে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে এই জাতীয় সনদ একটি দিকদর্শন হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রায় আট মাস ধরে তিন ধাপে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শেষে স্বাক্ষরিত হয়ে ১৭ অক্টোবর চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’।

এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে।

গত ১৬ আগস্ট রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো পূর্ববর্তী খসড়ায় কিছু ত্রুটি থাকায়, তা সংশোধন করে নির্ভুল খসড়া পাঠানো হয়।

এরপর গত বুধবার (২০ আগস্ট) কমিশনের পক্ষ থেকে খসড়াটির ওপর নিজেদের যে কোনো ধরনের মতামত প্রদানের সময় ২২ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সকলের মতামত পর্যালোচনা করে এবং নির্ভুল আকারে জুলাই সনদ লিখিত আকারে চূড়ান্ত করে, গত ১৪ অক্টোবর সনদের চূড়ান্ত কপি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে দেওয়া হয়।