১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আদ-দ্বীন সখিনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় ইমরান (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান আলী যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে নেওয়ার পর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাহাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্নি কোনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন দেন।

নিহতের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথম ইনজেকশনের পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিষয়টি জানানো হলেও চিকিৎসকেরা গুরুত্ব দেননি। পরবর্তী ইনজেকশন দেওয়ার পর ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দায়ী চিকিৎসকদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। অতিরিক্ত পরীক্ষা ও অপারেশনের নামে আর্থিক হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন। তিনি বলেন, রোগীকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে জীবন রক্ষাকারী ‘হাইসোমাইড’ ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাসুম খান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আদ-দ্বীন সখিনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: ০৫:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় ইমরান (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান আলী যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে নেওয়ার পর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাহাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্নি কোনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন দেন।

নিহতের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথম ইনজেকশনের পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিষয়টি জানানো হলেও চিকিৎসকেরা গুরুত্ব দেননি। পরবর্তী ইনজেকশন দেওয়ার পর ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দায়ী চিকিৎসকদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। অতিরিক্ত পরীক্ষা ও অপারেশনের নামে আর্থিক হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন। তিনি বলেন, রোগীকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে জীবন রক্ষাকারী ‘হাইসোমাইড’ ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাসুম খান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।