প্রকাশ্যে ক্ষমা এবং শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে লিগ্যাল নোটিশ
- আপডেট: ১২:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করায় এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে মানহানিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ঢাবির সম্মানহানী হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে লিগ্যাল নোটিশে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা আজ শনিবার এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ঢাবির আইন বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে এ ‘ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সম্পর্কে অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন। তিনি গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের দেশের সামগ্রিক ক্ষতির জন্য দায়ী করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পর্কে সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক মন্তব্য করেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, এসব বক্তব্যে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মর্যাদা, সুনাম ও গুডউইল ক্ষুণ্ন হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
নোটিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে ১ জুলাই দেওয়া বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ব্যারিস্টার ফুয়াদের কাছে ১০০ কোটি টাকা দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, ক্ষতিপূরণের অর্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে জমা দিয়ে একাডেমিক গবেষণা ও জাতীয় উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট (পিআইএল) দায়ের করা হবে। ওই রিটে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রতিকার, দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ এবং আদালতের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হবে।



























