০২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ৬ শর্ত মানলে যুদ্ধ বন্ধ করবে ইরান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য ছয় দফা প্রধান শর্ত ঘোষণা করেছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি সম্ভব নয়। খবর মেহের নিউজ’র।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আগে থেকেই প্রস্তুত বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল কার্যকর করছে, যা ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্য’ নিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের পর ইরান ইসরায়েলের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।

ইরান নির্ধারিত ছয়টি প্রধান শর্তের মধ্যে রয়েছে:

১. ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান।

২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।

৩. যুদ্ধের ফলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি পূর্ণ ক্ষতিপূরণে প্রতিপূর্ণ করা।

৪. পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম ও যুদ্ধ বন্ধ করা।

৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি।

৬. ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নির্দিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা ও ইরানের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করা।
ইরান এই শর্তগুলোকে নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছে, যা দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তেহরানের এই অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ শর্তগুলো ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্য প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিছু মিত্র দেশ ইরানের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, এই ছয় দফা শর্ত মূলত ইরানের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ৬ শর্ত মানলে যুদ্ধ বন্ধ করবে ইরান

আপডেট: ১১:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য ছয় দফা প্রধান শর্ত ঘোষণা করেছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি সম্ভব নয়। খবর মেহের নিউজ’র।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আগে থেকেই প্রস্তুত বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল কার্যকর করছে, যা ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্য’ নিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের পর ইরান ইসরায়েলের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।

ইরান নির্ধারিত ছয়টি প্রধান শর্তের মধ্যে রয়েছে:

১. ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান।

২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।

৩. যুদ্ধের ফলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি পূর্ণ ক্ষতিপূরণে প্রতিপূর্ণ করা।

৪. পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম ও যুদ্ধ বন্ধ করা।

৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি।

৬. ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নির্দিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা ও ইরানের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করা।
ইরান এই শর্তগুলোকে নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছে, যা দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তেহরানের এই অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ শর্তগুলো ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্য প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিছু মিত্র দেশ ইরানের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, এই ছয় দফা শর্ত মূলত ইরানের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।