বেনাপোল কাস্টমস হাউসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি
- আপডেট: ০২:১৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / ১৮

এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ডিজিটাল ওজন স্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণায় উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি এবং পণ্য আত্মসাতের ঘটনায় সরকারের রাজস্ব আদায় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পণ্যের ওজন ও শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ সৃষ্টি করছে।
বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ছয় হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪২ শতাংশ। একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ দুই হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য।
আগের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ছিল সাত হাজার ২৯.৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা এবং আমদানি কমেছে প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সাফটা সুবিধার আওতায় আমদানীকৃত পণ্যের শুল্কহার গত তিন অর্থবছরে ৭ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য সাফটা সুবিধায় প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা বাস্তবে পাওয়া যায় না।
ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি দাপ্তরিক চিঠি প্রকাশ্যে এলে ওজন স্কেলে কারচুপির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুন বন্দরের ৫ নম্বর ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে একই ভারতীয় খালি ট্রাক (এইচআর-৩৮-একে-৪০১৮) একই সময়ে দুটি পৃথক পণ্যতালিকায় দুই ধরনের ওজন দেখানো হয়েছে। একটিতে ট্রাকটির খালি ওজন চার হাজার ৮৮০ কেজি, অন্যটিতে চার হাজার ৯২০ কেজি। এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কাস্টমস।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে বন্দরের প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়বে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পরই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ওজনযন্ত্রের তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথি ও ঘটনার সব দিক যাচাই করা হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেন, “সরকারের এক টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সে বিষয়ে কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজন স্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি কিংবা সাফটা সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেও বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেনাপোল কাস্টমসে অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।”




















