মাগুরার শালিখায় পুণ্যলগ্নে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত: পাপমোচন ও বিশ্বশান্তির প্রার্থনা
- আপডেট: ১২:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / ১১

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘গঙ্গা দশহরা’ বা ‘গঙ্গাবতরণ’ উপলক্ষে পবিত্র গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সনাতন শাস্ত্র মতে, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন মা গঙ্গা। রাজা ভগীরথের কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে সগর বংশের ষাট হাজার সন্তানের অভিশপ্ত ছাইভস্ম পবিত্র স্পর্শে মুক্ত করতে মর্ত্যলোকে আগমন ঘটেছিল দেবীর। সেই পুণ্য তিথিকে স্মরণ করেই আজ মুক্তিনগরে এই গঙ্গাস্নানের আয়োজন করা হয়।
দশ পাপ থেকে মুক্তির আকুল প্রার্থনা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে গঙ্গাস্নান অথবা মা গঙ্গাকে স্মরণ করলে মানবজীবনের ১০টি মহাপাপ (যেমন: পরস্বাপহরণ, অকারণে হিংসা, কু-চিন্তা, কটু বাক্য প্রয়োগ, মিথ্যে বলা, পরনিন্দা, অশাস্ত্রীয় কাজ, পরধন হরণ, অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়া এবং অসংযত আচরণ) থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। এই পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির আশায় ভোর থেকেই মুক্তিনগরের জলাশয়ে ভিড় জমান শত শত পুণ্যার্থী।
উৎসবের আমেজ ও ধর্মীয় আচার
দিনটি উপলক্ষে মুক্তিনগরে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুণ্যার্থীরা জলাশয়ে স্নান শেষ করে মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে প্রদীপ ভাসিয়ে দেন। এসময় চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে—
”ওঁ নমো গঙ্গায়ৈ বিশ্বরূপিণ্যৈ নারায়ণ্যৈ নমো নমঃ” —এই পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে।
স্নানের পাশাপাশি ভক্তরা যার যার সাধ্যমতো দান-ধ্যান ও বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। কারণ শাস্ত্রানুযায়ী, এই পুণ্য তিথিতে করা দান বহু গুণ বেশি ফল প্রদান করে।
মনকে শুদ্ধ করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে আগত ভক্ত ও আয়োজকরা জানান, কেবল দেহে জল ঢেলে স্নান নয়, বরং এই তিথির মূল উদ্দেশ্য হলো মনের ভেতরের সব কলুষতা ধুয়ে-মুছে মনকে শুদ্ধ করা। মা গঙ্গা যেন সবার জীবনের সকল দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন এবং সমাজ ও বিশ্বে শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনেন—এটাই ছিল এবারের গঙ্গাস্নানের মূল প্রার্থনা।





















