শার্শায় চাঁদার দাবিতে শ্রমিককে বেঁধে হাতুড়ি পেটানোর ঘটনায় পলাতক আসামি মুকুল গ্রেফতার
- আপডেট: ০৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা থানায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক শ্রমিককে রশি দিয়ে বেঁধে হাতুড়িপেটার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি মুকুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, শার্শা থানার মামলা নম্বর ৩০ (তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬) দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি মুকুল হোসেন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। পরে তাকে বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে ভুক্তভোগী শ্রমিকের সঙ্গে আসামিদের মাছের ব্যবসা ছিল। ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর থেকেই আসামিরা তার ওপর ক্ষোভ পোষণ করে আসছিল।
গত (১৯ এপ্রিল-২০২৬) সকাল ৭টার দিকে ভুক্তভোগী কাজের উদ্দেশ্যে ভ্যানযোগে যাওয়ার পথে দাউদখালী এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার গতিরোধ করে। এ সময় তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোহার হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
এ সময় আসামিরা তাকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে চাপ দেয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে রুদ্রপুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে পুনরায় নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মারুফ হোসেন জানায়, আটককৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















