১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

শার্শায় পিআইও রঞ্জুর অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৬৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে শার্শা উপজেলা পরিষদ চত্বরে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী লিটন অনুসারী) “শার্শা উপজেলাবাসী” ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে আগত ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন বিক্ষোভকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু এবং শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামান পরস্পরের যোগসাজশে টেন্ডারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছেন। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ভূয়া সদস্য দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসক নুরুজ্জামানের সহায়তায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ডিহি ইউনিয়নের ট্যাংরালী সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে মাটির ওপর ইট বসিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অফিসে ডেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়ারঘোপে ইমরানের দোকান থেকে মনজুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ না করেই আংশিক কাজ দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। অতীতেও এ ধরনের অনিয়ম চললেও নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর অপসারণ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

এদিকে এ সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু মুঠোফোনে জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প কাজের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন এ কাজ গুলো তার অনুসারী লোকজনকে দিয়ে করাতে হবে। তখন আমি বলি এসব কাজ পাইয়ে দেওয়া আমার কাজ না। তখন নুরুজ্জামান লিটন বলেন ‘আমি নাকি ৭ নং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত কাজগুলো উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের সমার্থক কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মুকুলকে পাইয়ে দিতে সগযোগিতা করছি। তখন আমি কথাটি মিথ্যা দাবী করলে নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ১০ দিনের ভিতর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং এ উপজেলায় আমি যাহাতে না চাকরি করতে পারি তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। যে কথপোকথনের অডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাই হয়তো তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাকে হেও প্রতিপন্ন করতে তার অনুসারী লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন। আসলে মুল বিষয় হলো গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নামে গঠিত একটি কমিটি আছে। সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করে ইউপি চেয়ারম্যান বা প্রশাসক। আর আমার কাজ হলো কাজটি বুঝে নেওয়া।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, যুব বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের খাঁন, ডিহি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, শার্শা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম চয়ন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাইমিনুল সাগর প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

শার্শায় পিআইও রঞ্জুর অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান

আপডেট: ১১:২৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে শার্শা উপজেলা পরিষদ চত্বরে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী লিটন অনুসারী) “শার্শা উপজেলাবাসী” ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে আগত ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন বিক্ষোভকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু এবং শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামান পরস্পরের যোগসাজশে টেন্ডারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছেন। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ভূয়া সদস্য দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসক নুরুজ্জামানের সহায়তায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ডিহি ইউনিয়নের ট্যাংরালী সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে মাটির ওপর ইট বসিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অফিসে ডেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়ারঘোপে ইমরানের দোকান থেকে মনজুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ না করেই আংশিক কাজ দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। অতীতেও এ ধরনের অনিয়ম চললেও নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর অপসারণ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

এদিকে এ সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু মুঠোফোনে জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প কাজের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন এ কাজ গুলো তার অনুসারী লোকজনকে দিয়ে করাতে হবে। তখন আমি বলি এসব কাজ পাইয়ে দেওয়া আমার কাজ না। তখন নুরুজ্জামান লিটন বলেন ‘আমি নাকি ৭ নং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত কাজগুলো উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের সমার্থক কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মুকুলকে পাইয়ে দিতে সগযোগিতা করছি। তখন আমি কথাটি মিথ্যা দাবী করলে নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ১০ দিনের ভিতর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং এ উপজেলায় আমি যাহাতে না চাকরি করতে পারি তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। যে কথপোকথনের অডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাই হয়তো তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাকে হেও প্রতিপন্ন করতে তার অনুসারী লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন। আসলে মুল বিষয় হলো গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নামে গঠিত একটি কমিটি আছে। সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করে ইউপি চেয়ারম্যান বা প্রশাসক। আর আমার কাজ হলো কাজটি বুঝে নেওয়া।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, যুব বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের খাঁন, ডিহি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, শার্শা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম চয়ন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাইমিনুল সাগর প্রমুখ।