ডিবির অভিযানে ২০ মামলার আসামি চরমপন্থি নেতা গোফরান আটক, মোটরসাইকেল-ল্যাপটপ উদ্ধার
- আপডেট: ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের অভয়নগরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও কথিত গোফরান বাহিনীর প্রধান মো. নাসির শেখ ওরফে গোফরান (৪০) এবং তার সহযোগী মো. সোহেল রানা (২৮)কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া একটি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপসহ তিনটি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে যশোরের অভয়নগর থানার ৭ নম্বর শুভরাডা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসির শেখ ওরফে গোফরান এবং তার সহযোগী সোহেল রানাসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন ধারালো চাকু, চাপাতি, হাসুয়া ও লোহার রডসহ সংঘবদ্ধ হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা সোহেল শিকদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ঘরের ড্রয়ার থেকে ২০ হাজার টাকা, একটি ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ মোটরসাইকেল (মূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা), একটি এইচপি ল্যাপটপ (মূল্য ৮৫ হাজার টাকা) ও একটি ভিভো ভি২৯ মডেলের মোবাইল ফোন (মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুয়েল হোসেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মামলার ছায়া তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. কামরুজ্জামানের ওপর অর্পণ করেন।
পরে এসআই কামরুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খুলনার রূপসা থানার জাবুসা গ্রামের গ্লোরিপলস লিমিটেডের সামনে পাকা রাস্তা থেকে নাসির শেখ ও সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারের সময় নাসির শেখ ওরফে গোফরানের কাছ থেকে লুট হওয়া একটি ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল ও একটি এইচপি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সোহেল রানার কাছ থেকে একটি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাসির শেখ ওরফে গোফরান বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা এবং কথিত গোফরান বাহিনীর প্রধান। যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর থানাসহ খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রূপসা, তেরখাদা এবং নড়াইলের কালিয়া এলাকায় তিনি চরমপন্থি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে এবং ১১টি গ্রেফতারি পরোয়ানা মুলতবি আছে। অপর আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।




















